![]()
ইবি রিপোর্ট
বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে তৈরি পোশাক খাতে পরিবেশগত সুরক্ষা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের মান উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ। এ লক্ষ্যে চালু করা হয়েছে পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসনসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণের প্ল্যাটফর্ম ‘ইএসজি ড্যাশবোর্ড’। এর মাধ্যমে কারখানার বিভিন্ন মানদণ্ডের তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
সোমবার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ ভবনে প্ল্যাটফর্মটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বিআইজিডির গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক মুন্সি সোলায়মান এবং ম্যাপড ইন বাংলাদেশের (এমইবি) কারিগরি প্রধান অধ্যাপক মতিন আব্দুল্লাহ। স্বাগত বক্তব্য দেন বিজিএমইএর পরিচালক শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ।
পরিবেশ ও কর্মপরিবেশের তথ্য এক প্ল্যাটফর্মে
ইএসজি ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব কারখানা পরিচালনা, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার ও কার্বন নিঃসরণের মতো পরিবেশগত বিষয় সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে। পাশাপাশি ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার বিভিন্ন তথ্যও পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
রপ্তানি পণ্যের গন্তব্য দেশগুলোর নীতিমালা ও মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কারখানাগুলোর অগ্রগতি বুঝতে এ প্ল্যাটফর্ম সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে কমপ্লায়েন্স বা বিধিবিধান পরিপালনকে শুধু নিয়ম রক্ষার বিষয় হিসেবে না দেখে ব্যবসায়িক সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পোশাক কারখানাগুলোকে তথ্যসমৃদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য হতে হবে। ইতোমধ্যে ৩২৬টি প্রতিষ্ঠান এ প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছে। শিগগিরই পোশাক খাতের যৌথ সুরক্ষার স্বার্থে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সদস্যদের জন্য এটি বাধ্যতামূলক করা হবে।
বিজিএমইএর পরিচালক শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ বলেন, কমপ্লায়েন্সকে কেবল নিয়ম পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ব্যবসায়িক সক্ষমতায় রূপান্তর করাই এ প্ল্যাটফর্মের উদ্দেশ্য।
টেকসই শিল্প পরিচালনায় জোর
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বিগত সরকারের দুর্বল নীতির কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। বর্তমান সরকার ভঙ্গুর অর্থনীতি সংস্কার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ রূপকল্প বাস্তবায়নে পোশাকশিল্পের গতিশীল নেতৃত্ব বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার সরকারের সংস্কার কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানান এবং কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, গতানুগতিক নিয়ম পরিপালনের বাইরে গিয়ে টেকসই শিল্প পরিচালনা দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের অন্যতম শর্ত। বিআইজিডির গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক মুন্সি সোলায়মান দেশের সব পোশাক কারখানাকে এ ব্যবস্থার আওতায় আনার আহ্বান জানান। ম্যাপড ইন বাংলাদেশের কারিগরি প্রধান অধ্যাপক মতিন আব্দুল্লাহ প্ল্যাটফর্মটির কারিগরি দিক তুলে ধরেন।
ডেনমার্ক দূতাবাসের আর্থিক সহায়তায় এবং বিআইজিডি ও এমআইবির কারিগরি সহযোগিতায় বিজিএমইএ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।