![]()
ইবি রিপোর্ট
দলের সিদ্ধান্তই মেয়র নির্বাচনে নিজের অংশগ্রহণের বিষয়টি নির্ধারণ করবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানো ইশরাক হোসেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রয়োজন মনে করলে দলের স্বার্থে নির্বাচনে অংশ নিতে শতভাগ প্রস্তুত রয়েছেন তিনি। তবে দল অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলেও সেই প্রার্থীকে বিজয়ী করতে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন ইশরাক।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
মেয়র নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ইশরাক হোসেন বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এখতিয়ারভুক্ত। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্বও তাঁদের। ২০২০ সালে তিনি মেয়র নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন উল্লেখ করে ইশরাক বলেন, নির্বাচনের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি দলের নির্দেশনা অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরে নগরীর বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও কাজ করেছেন তিনি।
নগরীর সমস্যাগুলো তুলে ধরে ইশরাক বলেন, এসব বিষয়ে কাজ শুধু মৌসুমি কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নগর ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত সমস্যা, কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার অভাব এবং একাধিক সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতাসহ নানা জটিলতা রয়েছে। এসব সমস্যা নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন।
ইশরাক বলেন, দলের প্রয়োজন হলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। একই সঙ্গে বিএনপি অন্য কাউকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিলে দলের সেই প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্যও শতভাগ প্রস্তুত রয়েছেন তিনি।
এর আগে সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করেন ইশরাক। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, মাদক নির্মূলের উদ্যোগ থেকে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
নিজের নিরাপত্তার জন্য বৈধ অস্ত্র সঙ্গে রেখেছিলেন জানিয়ে ইশরাক বলেন, বিষয়টি বিভিন্ন মহলে ভিন্নভাবে প্রচার করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, জমি দখল বা চাঁদা তোলার উদ্দেশ্যে তিনি কোনো কাজে যাননি; বরং মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়েছিলেন।
ইশরাকের ভাষ্য, দেশের পরিচিত গণমাধ্যমগুলোতে ঘটনাটি ভিন্নভাবে প্রচারিত হওয়ায় মাদক নির্মূলের অভিযান আড়ালে পড়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আলোচনা করেন। দল যাতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়ে, সে জন্য পদত্যাগের ইচ্ছার কথাও তাঁকে জানান।
পদত্যাগের পর আরও সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকার কথা জানিয়ে ইশরাক বলেন, তিনি মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন। তাঁর প্রত্যাশা ছিল, দেশের শীর্ষ গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁর উদ্যোগে উৎসাহ দেবেন, যাতে পরবর্তী সময়ে মাদকের অন্যান্য স্পটও চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।
এ সময় অভিযানের মাধ্যমে কোনো ভুল হয়ে থাকলে দুঃখ প্রকাশ করেন ইশরাক হোসেন।
পাঠকের মন্তব্য