![]()
ইবি রিপোর্ট
বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে আস্থা তৈরির ক্ষেত্রে শুধু মুনাফা নয়, গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকেও বিশেষ গুরুত্ব দেন নেদারল্যান্ডসের ব্যবসায়ীরা। দেশটিতে এসব বিষয়ের নিশ্চয়তা থাকলে বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিয়ে আস্থা বাড়ে বলে মনে করেন নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী শুর্দ শুর্দসমার। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি এ অবস্থানের কথা জানান। একই সঙ্গে ইউরোপের বাজারে জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য নিষিদ্ধের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে বাংলাদেশ। এ প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এ ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা অন্যতম শর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইইউর নতুন বিধি অনুযায়ী, জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। ২০২৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর থেকে ইউরোপের বাজারে এ নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে ইউরোপে পণ্য রপ্তানি করতে আগ্রহী উৎপাদক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য শ্রম অধিকারসংক্রান্ত মানদণ্ড পূরণের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
সম্প্রতি ঢাকা সফরে এসে নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী শুর্দ শুর্দসমার চ্যানেল 24-কে বলেন, বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে সরবরাহব্যবস্থার পুরো প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
তিনি জানান, শ্রম অধিকারের মানদণ্ড পূরণ হচ্ছে কি না, তা যাচাই করাই ইইউর একমাত্র লক্ষ্য নয়। বাংলাদেশসহ অংশীদার দেশগুলোর উৎপাদক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে ইউরোপীয় মানদণ্ড পূরণ করতে পারে, সে জন্যও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে এ সহায়তা দেওয়া হয়।
শুর্দ শুর্দসমারের মতে, এই সহযোগিতা থেকে তিন পক্ষ উপকৃত হবে। প্রথমত, শ্রমিকদের অধিকার পরিস্থিতির উন্নতি হবে। দ্বিতীয়ত, কারখানাগুলো সন্তুষ্ট কর্মী পাবে। তৃতীয়ত, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও উপকৃত হবে।
ঢাকা সফরকালে নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব আলোচনায় বাংলাদেশে ডাচ বিনিয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংস্কার, গণতন্ত্রের স্থিতিশীলতা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর জোর দেন তিনি।
শুর্দ শুর্দসমার বলেন, বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডসের ব্যবসায়ীদের আকৃষ্ট করতে হলে ব্যবসার জন্য স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে স্থিতিশীল গণতন্ত্রের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাও জরুরি। এসব বিষয় নিশ্চিত হলে ব্যবসায়ীরা তাঁদের বিনিয়োগ নিরাপদ থাকবে বলে আস্থা পান।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন নেদারল্যান্ডসের এই মন্ত্রী। তাঁর মতে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করেছে।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশের শর্ত পূরণ এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার বিষয়গুলো ডাচ মন্ত্রীর বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে বিনিয়োগের পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত করে দেখেছেন তিনি।
পাঠকের মন্তব্য