![]()
ইবি রিপোর্ট
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ও তাঁর সহযোগীদের আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার ঘটনায় আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্তে আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
রবিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ঘটনাটি পর্যালোচনা না করে এখনই এ বিষয়ে মন্তব্য করার সময় আসেনি। সংশ্লিষ্ট উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেবেন। সেখানে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে ডিএমপি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
মাদকবিরোধী অভিযানে একজন মন্ত্রী পুলিশের মতো দায়িত্ব পালন করতে পারেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবিপ্রধান এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি।
শনিবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের নিজস্ব ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তাঁকে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিতে দেখা যায়। ভিডিওতে তাঁর এক হাতে হ্যান্ড মাইক এবং অন্য হাতে পিস্তল ছিল।
ভিডিওর দৃশ্যে দেখা যায়, রাজধানীর গেণ্ডারিয়া রেললাইন-সংলগ্ন এলাকায় একটি গাড়ি থেকে নেমে পিস্তল উঁচিয়ে একদল লোকের পেছনে ধাওয়া করছেন ইশরাক হোসেন। একপর্যায়ে অস্ত্র তাক করে ‘অ্যাই দাঁড়াও, দাঁড়াও’ বলে চিৎকার করে তাঁদের থামার নির্দেশ দেন তিনি। এ সময় তাঁর পাশে সাদা পোশাক পরা আরেক ব্যক্তিকেও হাতে অস্ত্র নিয়ে দৌড়াতে দেখা যায়।
ভিডিওটি প্রকাশের পর অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসে। এ ঘটনায় আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পর্যালোচনা ও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে ডিবি।
এদিকে, শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটে ইশরাক হোসেনের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত আরেকটি পোস্টে ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।
ওই পোস্টে বলা হয়, মাদক কারবারিরা যে রাজনৈতিক দলেরই হোক না কেন, তাঁদের ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি নিজের দলের কোনো সদস্য মাদক কারবারে জড়িত থাকলেও তাঁর জন্য আরও বড় শাস্তির ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী।
পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগেও ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছেন ইশরাক হোসেন। এলাকাটিকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চালিয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়।
একই সঙ্গে মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনায় এলাকাবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ফেসবুক পোস্টে মাদক কারবারিদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রী ও তাঁর সহযোগীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি পর্যালোচনার মধ্যে রেখেছে ডিবি। সংশ্লিষ্ট উপ-পুলিশ কমিশনারের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনের কোনো ব্যত্যয় পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পাঠকের মন্তব্য