![]()
ইবি রিপোর্ট
কক্সবাজারের ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আরও চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেলেও সর্বশেষ উদ্ধার হওয়া চারজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন শনিবার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে আরও চারটি মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছিল, আগুনে ছয় পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ছয়জন। সে সময় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়েছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
শনিবার সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবস্থিত টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে আগুন লাগে। আগুনে পুরো রিসোর্টটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৮টা থেকে তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপরও ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখা হয়।
দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান। তিনি জানান, ফায়ার সার্ভিসের নেতৃত্বে উদ্ধারকারী দল তখন পর্যন্ত ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করেছিল। আহত ছয়জনকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং দুজনকে চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি বলে জানান জেলা প্রশাসক। একই তথ্য জানিয়েছিলেন ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন।
অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭) এবং চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও ফায়িজান আহম্মেদ (৫)। সর্বশেষ উদ্ধার হওয়া চারজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
আহত ছয়জন হলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।
ঘটনার পর সিআইডির কক্সবাজারের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছিলেন, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। রিসোর্টের একটি কক্ষে কয়েকজন আটকা পড়েছেন বলেও খবর পাওয়া গিয়েছিল। পরে উদ্ধার অভিযানে আরও চারজনের মরদেহ পাওয়ার মধ্য দিয়ে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে পৌঁছায়।
অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের সবাই সেখান থেকে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। তবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টে থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। উদ্ধার অভিযান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য