![]()
ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি রফতানি ব্যাহত হওয়ায় বড় ধরনের রাজস্ব হ্রাসের মুখে পড়েছে কাতার। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) দেশটির সরকারি রাজস্ব কমেছে ৪২ শতাংশ। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহকারী দেশটির আয়ে এই পতনের পেছনে যুদ্ধজনিত কারণে রফতানি কমে যাওয়াকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে এলএনজি রফতানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় সরকারি রাজস্বে এ প্রভাব পড়েছে।
বিশ্ববাজারে এলএনজি সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে কাতার অন্যতম প্রধান। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে দেশটির জ্বালানি রফতানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকা এবং রাস লাফান কমপ্লেক্সে হামলার ঘটনায় এলএনজি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশটির সরকারি আয়ে।
কাতারের অর্থনীতিতে জ্বালানি খাতের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ফলে এলএনজি রফতানি কমে যাওয়ায় সরকারি রাজস্বে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত রাজস্ব ৪২ শতাংশ কমে যাওয়ার তথ্য দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে যুদ্ধের প্রভাবের মাত্রা তুলে ধরেছে।
হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। এ পথে চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং রাস লাফান কমপ্লেক্সে হামলার কারণে কাতারের এলএনজি রফতানি কার্যক্রম বাধার মুখে পড়ে। এর ফলে দেশটির জ্বালানি সরবরাহ ও রাজস্ব আদায়ে চাপ তৈরি হয়েছে। খবর দ্য ন্যাশনালের।
রাজস্ব কমে যাওয়ার পরও অর্থনৈতিক ধাক্কা সামাল দিতে সক্ষম হয়েছে কাতার। বৈদেশিক রিজার্ভ শক্তিশালী করা, সরকারি ঋণ কমানো এবং বাজেট প্রণয়নে জ্বালানি তেলের জন্য রক্ষণশীল মূল্য ধরে রাখার মতো পদক্ষেপ দেশটিকে সহায়তা করেছে।
বৈদেশিক রিজার্ভ শক্তিশালী থাকলে আন্তর্জাতিক লেনদেনের প্রয়োজন মেটানো এবং বাহ্যিক অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলার সক্ষমতা বজায় রাখা সহজ হয়। একইভাবে সরকারি ঋণ কমানোর উদ্যোগ আর্থিক ব্যবস্থাপনায় চাপ সীমিত রাখতে সহায়তা করে। বাজেটে জ্বালানি তেলের তুলনামূলক রক্ষণশীল দাম বিবেচনায় রাখাও রাজস্ব ও ব্যয়ের পরিকল্পনায় সতর্কতার অংশ।
কাতারের সরকারি রাজস্বে বড় পতন ঘটলেও এসব আর্থিক পদক্ষেপের কারণে দেশটি যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব অনেকটাই সামলে উঠেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ কাতারের মতো জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এলএনজি রফতানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় দেশটির সরকারি আয়ে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা এবং রাস লাফান কমপ্লেক্সে হামলার ঘটনা জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থার ওপর সংঘাতের প্রভাব সামনে এনেছে।
চলতি বছরের প্রথমার্ধে রাজস্ব ৪২ শতাংশ কমে যাওয়ার তথ্য কাতারের অর্থনীতিতে যুদ্ধের তাৎপর্য তুলে ধরে। তবে শক্তিশালী বৈদেশিক রিজার্ভ, কম সরকারি ঋণ এবং সতর্ক বাজেট পরিকল্পনার কারণে দেশটি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।
পাঠকের মন্তব্য