![]()
ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানে নতুন করে হামলার নির্দেশ দিলে বিশ্বের বৃহত্তম অ-পারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহার করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন। তবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো ধ্বংসে এই বোমা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানে আবার হামলার নির্দেশ দেন, তাহলে মার্কিন বাহিনী এই বোমা ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। সম্প্রতি ট্রাম্প বলেছেন, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষে ইরানে আবার হামলা শুরু করতে পারে মার্কিন বাহিনী।
‘মাদার অব অল বম্বস’ বা ‘সব বোমার মা’ যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে থাকা সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা। অস্ত্রটিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি বিশেষ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইরানের বিরুদ্ধে এটি ব্যবহারের সম্ভাবনা দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের সম্ভাব্য পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন সামরিক বিকল্প নিয়ে একাধিক বৈঠক করেছেন। এসব আলোচনায় কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে পর্যালোচনা চলছে।
সিএনএনকে দেওয়া বক্তব্যে মার্কিন এক কর্মকর্তা বলেন, সামরিক বাহিনী কোনো অভিযান বা পরিকল্পনা তৈরি করলে নীতিনির্ধারকদের সামনে বিভিন্ন ধরনের বিকল্প তুলে ধরে। এসব বিকল্পের মধ্যে সর্বোচ্চ থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ের আক্রমণাত্মক পদক্ষেপও থাকে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, “মাটির অনেক গভীরে থাকা লক্ষ্যবস্তুগুলোর জন্য বড় বোমার প্রয়োজন হয়, আর ‘মাদার অফ অল বম্বস’ হলো সবচেয়ে বড় বোমা।”
তবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা এবং ভূগর্ভস্থ অন্যান্য অবকাঠামোর বিরুদ্ধে এই বোমার কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যেও এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওয়াশিংটনের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে বোমাটি কতটা কার্যকর হবে, তা নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।
বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জিপিএস-নির্দেশিত এই বোমাটি নয়টি সিটি ব্লকের সমান এলাকা ধ্বংস করতে সক্ষম। তবে ইরানের পিকাক্স পর্বতে অবস্থিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার ক্ষেত্রে এটি যথেষ্ট কার্যকর নাও হতে পারে। ধারণা করা হয়, এসব স্থাপনা গ্রানাইট পাথরের পুরু স্তরের নিচে সুরক্ষিত রয়েছে। ইরানের অন্যান্য পারমাণবিক স্থাপনার ক্ষেত্রেও বোমাটির কার্যকারিতা সীমিত হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসন বোমাটিকে কেবল সামরিক আঘাতের উপায় হিসেবে নয়, মনস্তাত্ত্বিক অস্ত্র হিসেবেও ব্যবহারের কথা বিবেচনা করতে পারে। তবে ইরানে নতুন করে হামলা হলে শেষ পর্যন্ত কোন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।