![]()
ইবি রিপোর্ট
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সারজিস আলমকে বহিষ্কার এবং হাসনাত আব্দুল্লাহকে শোকজ নোটিশ দেওয়ার দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক এবং আব্দুল কাদেরের ৯ দফা দাবি নস্যাৎ করতে ৮ দফা কর্মসূচি দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন। পোস্টে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে আন্দোলনের ওই সময়কার ঘটনাপ্রবাহে আব্দুল কাদেরের ভূমিকা উপেক্ষিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্ট্যাটাসে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘জমিদারের নাতি সারজিস আলমকে নাহিদ ইসলাম বহিষ্কার করে আর হাসনাত আব্দুল্লাহকে শোকজ নোটিশ দেয়! ১৯ জুলাই, যেদিন সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়, সেদিন এরা শহীদের রক্ত মারিয়ে আওয়ামীলীগের মন্ত্রীদের সাথে বৈঠক করে এবং আব্দুল কাদেরের ৯ দফাকে বানচাল করতে ৮ দফা কর্মসূচি প্রদান করে। কিন্তু লীগ-চাটা হাসনাত-সারজিস আজকে জামায়াতি জাতির আব্বা হয়ে গেছে! আর ইতিহাস থেকে হারিয়ে গেছে আব্দুল কাদের রা!’
রাশেদের এই পোস্টের সঙ্গে সারজিস আলমের একটি মন্তব্যের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে সারজিস লিখেছেন, ‘মানুষ আপনাকে দুই টাকারও দাম দেয় না’।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন আরও অভিযোগ করেন, সেদিন হাসনাত আব্দুল্লাহ হাসিব আল ইসলামকে ফোন করে মেস থেকে নিয়ে আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে যান। তাঁর দাবি, আরও অনেককে ওই বৈঠকে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন হাসনাত ও সারজিস। তবে শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে চাননি বলে অন্যরা বৈঠকে যাননি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়েও নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন রাশেদ খাঁন। তিনি লেখেন, অন্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও গণঅভ্যুত্থানের সময় অন্তত তাঁদের ভূমিকা সঠিক ছিল। তবে তাঁর অভিযোগ, সেই সময় সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহ প্রকাশ্যে জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ৯ দফা দাবি বানচালের ষড়যন্ত্রে নেমেছিলেন।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে রাশেদ খাঁন বহিষ্কারের দাবির পক্ষে একটি সূত্রের কথা উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, ‘নেত্র নিউজে আজও সেই বহিষ্কারের তথ্য রয়েছে।’
রাশেদ খাঁনের এসব বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার ঘটনাবলি, সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহর ভূমিকা এবং আব্দুল কাদেরের ৯ দফা দাবিকে ঘিরে তাঁর অভিযোগগুলো উঠে এসেছে। তবে এখানে বর্ণিত বিষয়গুলো রাশেদ খাঁনের ফেসবুক স্ট্যাটাসে দেওয়া দাবি ও বক্তব্য; প্রতিবেদনে এগুলোকে স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।
পাঠকের মন্তব্য