![]()
ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় সামরিক বাহিনীর একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ২৫ জন যাত্রী এবং সাতজন ক্রু সদস্য ছিলেন। সোমবার দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ওন্দো রাজ্যে দুর্ঘটনাটি ঘটে। উড়োজাহাজটি বেনিন সিটি থেকে লাগোসের উদ্দেশে নিয়মিত মিশনে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
নাইজেরিয়ার বিমান চলাচলবিষয়ক মন্ত্রী ফেস্টাস কিয়ামো জানান, বিমানবাহিনীর এটিআর-৪২ মডেলের উড়োজাহাজটি নিয়মিত মিশনের অংশ হিসেবে বেনিন সিটি থেকে লাগোস যাচ্ছিল। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ১৩ মিনিটে উড়োজাহাজটির সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণকক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে উপকূলীয় শহর ইগবোকোদার কাছে একটি নৌঘাঁটির আশপাশে উড়োজাহাজটির ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করা হয়।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরপরই উড়োজাহাজটির সন্ধানে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা নৌকায় করে দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে তল্লাশি চালাচ্ছেন। একই সময়ে ঘটনাস্থলে স্থানীয় মানুষের ভিড়ও দেখা যায়।
নাইজেরিয়ার বিমানবাহিনী জানিয়েছে, বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটি এটিআর-৪২ মডেলের। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। পরে উড়োজাহাজে থাকা ৩২ জনের কেউই বেঁচে নেই বলে নিশ্চিত করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে অনলাইন সংবাদমাধ্যম মিরর ডট কো ডট ইউকে জানিয়েছে, উড়োজাহাজটি একটি নদীর কাছে বিধ্বস্ত হয়। ধ্বংসাবশেষের কিছু অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, উড়োজাহাজটি মাটিতে আছড়ে পড়ার সময় তারা বজ্রপাতের মতো বিকট শব্দ শুনতে পান।
দুর্ঘটনাস্থলে নিহতদের দেহের বিভিন্ন অংশ, পোশাক ও জুতাসহ উড়োজাহাজটির ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। উদ্ধারকারী দল নৌপথে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি চালায়।
এদিকে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুবু। তাঁর কার্যালয়ের বিবৃতিতে ২৫ যাত্রী ও সাত ক্রু সদস্যের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়। প্রেসিডেন্ট জানান, বিমানবাহিনীর প্রধান তাকে দুর্ঘটনার বিষয়ে অবহিত করেছেন।
দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন বোলা তিনুবু। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি নিয়মিত মিশনে থাকাকালে এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ হারায়। পরে ইগবোকোদার কাছে এর ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। কারণ নির্ধারণে বিমানবাহিনীর তদন্তের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পাঠকের মন্তব্য