
ইবি রিপোর্ট
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট দেওয়ার পর নেপাল রবি দাশ নামে এক তরুণের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার বটতলীর রুস্তমহাট এলাকায় একটি সেলুন থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত নেপাল রবি দাশ উপজেলার পূর্ব বটতলী এলাকার গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা মৃত সুনীল রবি দাশের ছেলে। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। বড় এক ভাইকে সঙ্গে নিয়ে রুস্তমহাট এলাকায় একটি সেলুন পরিচালনা করতেন নেপাল।
স্থানীয় দোকানিদের বরাত দিয়ে জানা যায়, শুক্রবার রাতে নেপালের ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে লেখা ছিল, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়, আমাকে সবাই ক্ষমা কইরেন।’ পোস্টটি নজরে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে তাঁকে খুঁজতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা এবং বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ রুস্তমহাট এলাকার ওই সেলুনে যায়। সেখানে গিয়ে সেলুনটি ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পায় তারা। পরে পুলিশ সেলুনের ভেতর নেপালের মরদেহ দেখতে পায় এবং সেটি উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে খাবার খাওয়ার পর নেপাল ওই সেলুনে গিয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নেপালের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে যাই। পরে নেপালের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর নেপালের মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।