![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গভীর সমুদ্রবন্দরসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে পৌঁছেছেন। রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার মাতারবাড়ীতে অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর চট্টগ্রাম অঞ্চলে এটি তার প্রথম সফর।
দিনব্যাপী এ সফরে মহেশখালীর উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনের পাশাপাশি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সফরের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন সহায়তা এবং স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভা।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় সাতটি ভেন্যু প্রস্তুত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার নিরাপত্তায় প্রায় আড়াই হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি নিয়েছেন।
বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ
সফরসূচি অনুযায়ী, ফটিকছড়িতে পৌঁছে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করার কথা রয়েছে তার।
প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মুহাম্মদ হেলাল জানান, প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে। এর মধ্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন কর্মসূচি অন্যতম।
ফটিকছড়ির কর্মসূচি শেষে হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে মাদ্রাসা পরিদর্শন ও মোনাজাতে অংশ নেবেন তিনি। পরে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে।
সাতটি ভেন্যু প্রস্তুত
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় সাতটি ভেন্যু প্রস্তুত করা হয়েছে। ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও চট্টগ্রাম নগরীর নির্ধারিত কর্মসূচির স্থানগুলোতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে নির্ধারিত ভেন্যু, হেলিপ্যাড ও সড়কপথের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য নির্মিত ১০০টি ঘর হস্তান্তর, ত্রাণ বিতরণ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে।
নিরাপত্তায় আড়াই হাজার পুলিশ
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কর্মসূচির ভেন্যু, হেলিপ্যাড, যাতায়াতের সড়ক, ভবনের ছাদ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে বিশেষ নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, প্রচলিত বিধিমালা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচির প্রতিটি কর্মস্থল, হেলিপ্যাড, সড়কপথ, ভবনের ছাদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় আড়াই হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি নিয়েছেন।
মহেশখালীর উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন
সফরসূচি অনুযায়ী, রোববার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। পরে সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে পৌঁছায়।
সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
মাতারবাড়ীতে প্রধানমন্ত্রী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
এরপর চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। সেখান থেকে তিনি ফটিকছড়ির উদ্দেশে রওনা দেবেন।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন সহায়তা
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে। বিকেল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়ার অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
এ কর্মসূচির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসনে সরকারের উদ্যোগের বিষয়টিও তুলে ধরা হবে।
নগরীতে বিএনপির সাংগঠনিক সভা
দিনের শেষ কর্মসূচি হিসেবে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রাম নগরীর র্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ হোটেলের অডিটোরিয়ামে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।
সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নির্ধারিত নেতারা অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
সব কর্মসূচি শেষে রাত ৯টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে চট্টগ্রাম অঞ্চলে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক—তিন দিকেই ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মহেশখালীর বড় উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সফরটিকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
পাঠকের মন্তব্য