ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে নতুন উদ্যোগ, দুবাই পুলিশের চাওয়া তথ্য পাঠাচ্ছে দুদক
দুর্নীতির একাধিক মামলায় অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতির কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটি জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই পুলিশের চাওয়া অতিরিক্ত তথ্য ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাঠানো হবে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ইন্টারপোলের সহযোগিতায় দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার পর বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সরকারের কাছে চেয়েছিল দুবাই পুলিশ। সে অনুযায়ী তদন্ত কর্মকর্তা আগেই প্রাথমিক নথিপত্র পাঠিয়েছেন।
তবে মামলার বিভিন্ন দিক নিয়ে আরও কিছু ব্যাখ্যা ও অতিরিক্ত তথ্য চেয়ে সম্প্রতি দুবাই পুলিশ নতুন একটি চিঠি পাঠিয়েছে। সেই চিঠির ভিত্তিতে তদন্ত কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় নথি ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করছেন। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা দুবাই পুলিশের কাছে পাঠানো হবে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ। এরপরই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে দ্রুত উদ্যোগ নেয় দুর্নীতি দমন কমিশন। মাত্র দুই দিনের মধ্যেই প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক নথিপত্র প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়।
প্রত্যর্পণ আবেদনের প্রায় এক মাস পর দুবাই পুলিশ নীতিগতভাবে বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান জানায়। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে মামলার বিভিন্ন বিষয়, আইনি প্রক্রিয়া এবং অভিযোগ সংক্রান্ত কিছু অতিরিক্ত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
দুদক জানিয়েছে, এসব ব্যাখ্যা যথাযথভাবে প্রস্তুত করে দ্রুত পাঠানো হবে, যাতে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া বিলম্বিত না হয়।
উল্লেখ্য, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন, পাসপোর্ট জালিয়াতি এবং দুর্নীতির অভিযোগে মোট ছয়টি মামলা দায়ের করেছে দুদক। তদন্তে তার এবং পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য উঠে আসে।
এরই মধ্যে প্রায় ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে এবং সেই মামলার বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে।
বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলে চলমান মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এখন দুবাই পুলিশের চাওয়া অতিরিক্ত তথ্য পাঠানোর পর প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ শুরু হবে।
পাঠকের মন্তব্য