![]()
শনিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া টানা ভারী বৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। রোববার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টায় ৮২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী আরও দুই দিন এ ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
এর আগে শনিবার রাত ১২টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত আরও ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। ফলে টানা বর্ষণে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসেই রাজধানীর স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
বিমানবন্দর সড়ক, বনানী, বিজয় সরণি, কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর, ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর, নিউমার্কেট, গ্রিন রোড, মতিঝিল, মিরপুরের কাজীপাড়াসহ রাজধানীর বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল ও প্রধান সড়ক হাঁটুপানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও কোথাও পানি কোমরসমান উচ্চতায় পৌঁছায়।
জলাবদ্ধতার কারণে ড্রেনেজ ব্যবস্থা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। অনেক এলাকায় দোকানপাট ও বাসাবাড়ির নিচতলায় পানি ঢুকে পড়ে, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী।
রোববার সকালে অফিসগামী মানুষকে দীর্ঘ সময় সড়কে অপেক্ষা করতে হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অনেককে বৃষ্টির মধ্যেই ছাতা হাতে হেঁটে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা দিতে দেখা গেছে।
মোহাম্মদপুর থেকে কুড়িলে কর্মস্থলে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আবদুল্লাহ মামুন বলেন, বৃষ্টির কারণে রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। বাসও কম থাকায় সময়মতো অফিসে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্কুলশিক্ষিকা সেলিনা পারভীন বলেন, সকালে স্কুলে যেতে গিয়ে বড় ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে। বাসায় পানি ঢুকে পড়ার পাশাপাশি রিকশা ও সিএনজি না পাওয়ায় অনেক কষ্ট করে বের হতে হয়েছে।
এদিকে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাকলী র্যাম্পের নিচের অংশ, বনানী, খিলক্ষেত, ঢাকা গেটসহ বিভিন্ন এলাকায়ও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, বিশেষ করে কাকলী মোড়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামা যানবাহন এবং নিচের সড়কে চলাচলকারী গাড়িগুলোকে অতিরিক্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
পাঠকের মন্তব্য