![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বর্জ্যের স্তূপ অপসারণে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে বিষয়টি আসার পর প্রশাসনের সমন্বিত পদক্ষেপে সাভারের বলিয়ারপুর এলাকায় বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুধু ময়লা পরিষ্কার করেই থেমে থাকছে না প্রশাসন; ভবিষ্যতে যাতে একই স্থানে আর কেউ বর্জ্য ফেলতে না পারে, সেজন্য সেখানে ফেন্সিং, বালু ভরাট এবং নিমগাছের চারা রোপণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
শনিবার সকালে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত মহাসড়কের পাশের এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে কার্যত একটি উন্মুক্ত ভাগাড়ে পরিণত হয়েছিল। জায়গাটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কিংবা সাভার পৌরসভার সরাসরি অধীনস্থ না হওয়ায় সেখানে নিয়মিত বর্জ্য ফেলা হলেও পরিষ্কার বা তদারকির দায়িত্ব কার্যকরভাবে কেউ পালন করছিল না।
তিনি জানান, কয়েক দিন আগে প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গাইরে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শনে যাওয়ার পথে সড়কের পাশের বর্জ্যের স্তূপ দেখতে পান। পরে তাঁর নির্দেশনার ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে প্রায় ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
পরিষ্কারের পর হবে ফেন্সিং ও নিমগাছ রোপণ
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্জ্য অপসারণ শেষে ওই এলাকায় প্রায় ১৫ ফুট পর্যন্ত বালু ফেলে ভূমি সমতল করা হবে। এরপর নেটিং দিয়ে ফেন্সিং বা বেড়া নির্মাণ করা হবে এবং পরিবেশ রক্ষায় নিমগাছের চারা রোপণ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু ময়লা সরানো নয়; বরং এমন একটি স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে ভবিষ্যতে কেউ সেখানে অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলতে না পারে।
‘ক্লিন বাংলাদেশ, গ্রিন বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার
মীর শাহে আলম বলেন, সরকার বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরও পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে তুলতে কাজ করছে।
তিনি বলেন, “ক্লিন বাংলাদেশ, গ্রিন বাংলাদেশ” কর্মসূচির আওতায় পরিবেশ রক্ষা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে। অবাস্তব প্রতিশ্রুতি না দিয়ে দেশকে একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতেই সরকারের এই উদ্যোগ।
নির্মাণ হচ্ছে নতুন ডাম্পিং স্টেশন
সাভার পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে মহাসড়কের বিপরীত পাশে একটি আধুনিক ল্যান্ডফিল বা ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষ ও বর্জ্য সংগ্রহকারীদের নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও ময়লা না ফেলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিদিন জমছে ৪০০ টন বর্জ্য
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, সাভার পৌরসভায় প্রতিদিন প্রায় ৪০০ টন বর্জ্য জমা হলেও তা পুনর্ব্যবহার বা পরিবেশসম্মতভাবে নিষ্পত্তির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।
তিনি বলেন, আগে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য জমি কেনা হলেও সেটি আবাসিক এলাকায় হওয়ায় ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। ফলে অস্থায়ীভাবে অন্য স্থান ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্যও ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এক মাসে শেষ হতে পারে পরিষ্কার কার্যক্রম
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে প্রায় ১৫০ জন শ্রমিক দুই দিন ধরে কাজ করে বর্জ্য অপসারণ শুরু করেছেন। তবে পুরো এলাকা সম্পূর্ণ পরিষ্কার করতে প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে।
ইউএনও আরও জানান, কিছু অসাধু ব্যক্তি বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্ধারিত স্থানে না ফেলে রাতের আঁধারে কিংবা ভোরে মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে যান। এই অনিয়ম বন্ধে ইতোমধ্যে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং বর্জ্য বহনে ব্যবহৃত ভ্যান ও যানবাহন জব্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে সাভার পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বছরে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। এ খাতে দক্ষতা বাড়াতে বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণের দায়িত্ব আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে পেশাদার প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন পদ্ধতি চালু হলে বাড়ি থেকেই নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্ধারিত স্থানে নেওয়া হবে, ফলে সড়কের পাশে অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা করছে প্রশাসন।
পাঠকের মন্তব্য