![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার শেষ ষোলোর ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে ওঠা বিতর্কের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সংস্থাটি জানিয়েছে, ম্যাচে ভিএআর এবং রেফারির নেওয়া সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ফুটবলের আইন অনুযায়ীই হয়েছে এবং পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হারের পর মিশরের মিডফিল্ডার মোস্তফা জিকো অভিযোগ করেন, তাদের একটি গোল অন্যায়ভাবে বাতিল করা হয়েছে যাতে আর্জেন্টিনা সুবিধা পায়। আরও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তিনি দাবি করেন, রেফারি ইচ্ছাকৃতভাবে ম্যাচ পরিচালনা করেছেন এবং বাণিজ্যিক স্বার্থে ফিফা আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসিকে টুর্নামেন্টে রাখতে চায়।
ঘটনার পর মিশর ফুটবল ফেডারেশন ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয়। তাদের দাবি ছিল, ম্যাচের বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ম্যাচের দায়িত্বে থাকা ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েকে বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলো থেকে বিরত রাখতে হবে।
মিশরের অভিযোগ অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার আক্রমণ গড়ে ওঠার আগে মোহাম্মদ সালাহর ওপর ফাউল হলেও সেটি আমলে নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, ওই ফাউল বিবেচনায় নিলে মিশর একটি পেনাল্টি পেতে পারত।
বৃহস্পতিবার ফিফার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ফিফার রেফারিং কমিটির প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা বলেন, ভিএআরের মাধ্যমে জিকোর গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। তার ভাষ্য, আক্রমণের ধারাবাহিকতায় মিশরের মারওয়ান আতিয়া আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের ওপর ফাউল করেছিলেন। ফলে ভিএআরের হস্তক্ষেপ ফুটবলের আইন অনুযায়ী যথাযথ ছিল।
কলিনা বলেন, “আমাদের মতে, ফাউল মানেই ফাউল। মাঠের রেফারি সেটি দেখতে না পেলে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারে।”
আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে মিশরের পেনাল্টির দাবির বিষয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। কলিনার মতে, মোহাম্মদ সালাহ ও জুলিয়ান আলভারেজের মধ্যে যে সংস্পর্শ হয়েছিল, সেটিকে রেফারি ও ভিএআর উভয়েই স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংস্পর্শ হিসেবে বিবেচনা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, কোনো ডিফেন্ডার যদি আগে বলে স্পর্শ করেন এবং এরপর স্বাভাবিক সংঘর্ষ হয়, তাহলে সেটিকে ফাউল হিসেবে গণ্য করা যায় না। তাই ওই ঘটনায় পেনাল্টি না দেওয়ার সিদ্ধান্তও সঠিক ছিল বলে মনে করে ফিফা।
ফিফার এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে সংস্থাটি রেফারির সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিলেও, ম্যাচটি ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক ফুটবল অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য