![]()
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই দক্ষিণ কোরিয়ার বিদায়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং। তিনি এই ব্যর্থতার কারণ খতিয়ে দেখতে সরকারের সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (কেএফএ) প্রধান কোচ হিসেবে হং মিয়ং-বোকে নিয়োগের সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেছেন তিনি। প্রেসিডেন্টের অভিযোগ, কোচ নির্বাচনের ক্ষেত্রে যোগ্যতার চেয়ে অন্য বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শনিবার বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিদায় নিশ্চিত হয়। গ্রুপে তৃতীয় স্থান অর্জন করলেও সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দলের মধ্যে থাকতে না পারায় নকআউট পর্বে ওঠা হয়নি তাদের। হং মিয়ং-বোর দল তিন ম্যাচে তিন পয়েন্ট সংগ্রহ করে। চেক প্রজাতন্ত্রকে হারালেও সহ-আয়োজক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে পরাজিত হয় তারা। গ্রুপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংধারী দল হওয়া সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত অন্য ম্যাচের ফলের ওপর নির্ভর করেও ভাগ্য বদলায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় প্রেসিডেন্ট লি বলেন, বিশ্বকাপে দলের অংশগ্রহণে জনগণের করের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। তাই এই ব্যর্থতার কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।
তিনি লেখেন, ‘এই অপ্রত্যাশিত ফলাফলে আমি শুধু বিস্মিত নই, সম্পূর্ণ হতবাক।’
আরও বলেন, ‘বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য জনগণের করের অর্থ এবং রাষ্ট্রীয় সহায়তা ব্যয় করা হয়। তাই আমি সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, কারণ বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যতে এমন ব্যর্থতা এড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
তিনি জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে দ্রুত ক্রীড়া প্রশাসনে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা হবে।
প্রেসিডেন্ট লি হং মিয়ং-বোর নিয়োগ প্রক্রিয়াও প্রশ্নবিদ্ধ করেন। তার দাবি, নেতৃত্ব নির্বাচনে জনস্বার্থ ও ব্যক্তিস্বার্থের মধ্যে যথাযথ পার্থক্য করা হয়নি এবং নিয়োগদাতাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও জবাবদিহির আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, এশিয়ার অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে পরিচিত হং মিয়ং-বো ২০১৩ সালের পর ২০২৪ সালে আবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন। তার নিয়োগের পরই দেশটির ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কেএফএকে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায়। তাদের অভিযোগ ছিল, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অ্যাসোসিয়েশন নিজস্ব নীতিমালা অনুসরণ করেনি এবং সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়াও যথেষ্ট স্বচ্ছ ছিল না। যদিও কেএফএ সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
উল্লেখ্য, হং মিয়ং-বোর অধীনেই দক্ষিণ কোরিয়া বাছাইপর্বে অপরাজিত থেকে ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছিল। তবে মূল আসরে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পেরে দলটি গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়।
পাঠকের মন্তব্য