![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে ব্যয় সংকোচন ও সামাজিক সুরক্ষায় জোর, সংসদে অর্থমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল ও গতিশীল করার লক্ষ্যে সরকার ধারাবাহিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক দুর্বলতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন খাতে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি ব্যয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে অপচয় রোধ, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো এবং প্রশাসনিক মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম, পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানী প্রদান কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকারি নিট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। তবে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে সরকারি ব্যয় ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন কিছুটা ধীরগতির হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে মোট ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সংশোধিত বাজেটে বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৩ শতাংশের সমান। একই সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ব্যয় ও ঘাটতির মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের গঠনমূলক আলোচনা ও মূল্যবান মতামতের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, এসব পরামর্শ ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি জাতীয় সংসদের সদস্যদের সম্পূরক আর্থিক বিবৃতিতে উল্লিখিত ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়ার আহ্বান জানান।
পাঠকের মন্তব্য