![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
চীন থেকে সরে আসছে বৈশ্বিক ক্রেতারা, বাংলাদেশের প্লাস্টিক শিল্পে শুরু হয়েছে নতুন সম্ভাবনার যুগ
বিশ্ব বাণিজ্যের মানচিত্রে ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার কেন্দ্র হিসেবে চীনের ওপর নির্ভরশীল ছিল বিশ্বের বড় বড় ব্র্যান্ড ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠান। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের ঝুঁকির কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখন বিকল্প উৎপাদন কেন্দ্র খুঁজতে শুরু করেছেন। এই প্রবণতাই বিশ্বব্যাপী ‘চায়না প্লাস ওয়ান স্ট্র্যাটেজি’ নামে পরিচিত।
এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের তালিকায় দ্রুত উঠে আসছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে দেশের প্লাস্টিক ও খেলনা শিল্পে সৃষ্টি হয়েছে নতুন সম্ভাবনার দ্বার। একসময় শুধুমাত্র স্থানীয় চাহিদা পূরণে সীমাবদ্ধ থাকা এই শিল্প এখন আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের প্লাস্টিক শিল্পের অন্যতম শক্তি হলো ‘প্রচ্ছন্ন রপ্তানি’ বা ডিমড এক্সপোর্ট। দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় হ্যাঙ্গার, পলিব্যাগ, কার্টন, প্যাকেজিং সামগ্রী এবং বিভিন্ন প্লাস্টিক উপকরণ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। এসব পণ্য সরাসরি বিদেশে রপ্তানি না হলেও রপ্তানিযোগ্য পণ্যের অংশ হিসেবে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
শিল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি এবং প্রচ্ছন্ন রপ্তানি মিলিয়ে বর্তমানে প্লাস্টিক ও খেলনা শিল্প থেকে বছরে প্রায় ২.২ বিলিয়ন ডলার আয় হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের ৬ হাজারেরও বেশি কারখানায় প্রায় ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। ফলে শিল্পটি শুধু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রেই নয়, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবেও আবির্ভূত হয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের ১২৬টিরও বেশি দেশে বাংলাদেশের তৈরি কিচেনওয়্যার, হাউজহোল্ড পণ্য, খেলনা এবং বিভিন্ন প্লাস্টিক সামগ্রী রপ্তানি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে থাকায় আগামী বছরগুলোতে রপ্তানি আয় আরও দ্রুত বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকার ইতোমধ্যে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে এই খাত থেকে ২২ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি উন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন নিশ্চিত করা গেলে এই লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব নয়।
বিশ্ববাজারের পরিবর্তিত বাস্তবতায় বাংলাদেশের প্লাস্টিক শিল্প এখন শুধু একটি সম্ভাবনাময় খাত নয়; বরং এটি দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।