• হোম > ঢাকা | বাংলাদেশ > ঢাকায় জরুরি পানি সরবরাহে ৯২০ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়েছে সরকার

ঢাকায় জরুরি পানি সরবরাহে ৯২০ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়েছে সরকার

  • সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ১৩:০৮
  • ৮৬

---

রাজধানী ঢাকায় নিরাপদ পানির ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবিলায় সরকার ৯২০ কোটি ৮৫ লাখ টাকার একটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ‘ইমার্জেন্সি ওয়াটার সাপ্লাই ইন ঢাকা সিটি’ নামের এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো নির্মাণাধীন বড় বড় ভূ-পৃষ্ঠস্থ পানি শোধনাগার চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত রাজধানীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল ও স্থিতিশীল রাখা। স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে শতভাগ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যুয়ারেজ অথরিটি (ঢাকা ওয়াসা)। আগামী ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে এটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের প্রোগ্রামিং বিভাগের সদস্য এস এম শাকিল আখতার জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে একনেক বৈঠকে ঢাকা ওয়াসাকে ভূগর্ভস্থ পানির অবস্থা, পানি পুনর্ব্যবহার এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের সম্ভাবনা নিয়ে সমীক্ষা পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটির প্রধান লক্ষ্য হলো জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার বিদ্যমান পানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা, দৈনিক অতিরিক্ত ৫৭৬ মিলিয়ন লিটার পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং আধুনিক SCADA প্রযুক্তির মাধ্যমে পাম্প ও পানি ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন করা। বর্তমানে ঢাকা ওয়াসা ভূগর্ভস্থ ও ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৯৭৭ এমএলডি পানি সরবরাহ করছে, যা প্রায় ২ কোটি মানুষের চাহিদা পূরণ করছে। এর মধ্যে ৬৬ শতাংশ পানি আসে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে এবং বাকি ৩৪ শতাংশ আসে ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে। তবে দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের কারণে রাজধানীতে পানির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৯ সালের মধ্যে এই চাহিদা বেড়ে প্রায় ৩ হাজার ৫৫৮ এমএলডিতে পৌঁছাবে।

দীর্ঘমেয়াদে পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা ওয়াসা ধীরে ধীরে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে ৫০০ এমএলডি সক্ষমতার গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার এবং ৪৫০ এমএলডি সক্ষমতার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার নির্মাণাধীন রয়েছে। এগুলো যথাক্রমে ২০২৬ ও ২০২৮ সালে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এসব প্রকল্প চালু না হওয়া পর্যন্ত জরুরি পানি সরবরাহ প্রকল্পটি রাজধানীর পানি উৎপাদন ও সরবরাহ সচল রাখতে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে।

প্রকল্পের আওতায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনর প্রায় ৩৬১ বর্গকিলোমিটার এলাকা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পানি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ৩৮৮টি গভীর নলকূপ প্রতিস্থাপন, ৪৫০টি পাম্প মোটর সেট, ৪৫০টি ভ্যারিয়েবল ফ্রিকোয়েন্সি ড্রাইভ (ভিএফডি) এবং ১২৪টি স্কাডা সিস্টেম স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি ৬০টি গভীর নলকূপ সংস্কার, ২৮০টি নলকূপ পুনরায় সচল এবং পানির মান উন্নয়নে ৪৪টি আয়রন রিমুভাল প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। সরবরাহ ব্যবস্থার সম্প্রসারণে ২৫০টি পাম্প হাউস নির্মাণের পাশাপাশি ৪৮০টি পাম্প ডেলিভারি লাইন, ২৮ হাজার মিটার বৈদ্যুতিক ক্যাবল এবং ৪০ হাজার মিটার কলাম পাইপ স্থাপন করা হবে। অবকাঠামো সুরক্ষায় প্রায় ৭ হাজার ১৫০ মিটার সীমানাপ্রাচীরও নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পটির কারিগরি ও পরিচালনগত সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং। ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির বৈঠকে কিছু পর্যবেক্ষণ যুক্ত করে প্রকল্পটির অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়। পরিকল্পনা কমিশনের মতে, বড় ভূ-পৃষ্ঠস্থ পানি শোধনাগারগুলো চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত এই প্রকল্প রাজধানীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/9992 ,   Print Date & Time: Thursday, 20 August 2026, 05:49:14 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh