• হোম > ইউরোপ | উত্তর আমেরিকা | বিদেশ | মধ্যপ্রাচ্য > ইরানের জবাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বললেন ট্রাম্প

ইরানের জবাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বললেন ট্রাম্প

  • সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ১১:২৬
  • ৭৮

---

কয়েকদিন আগে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার পথ খুলতে যুক্তরাষ্ট্র একটি শান্তি প্রস্তাব দেয়। এর জবাবে ইরান সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানায়—বিশেষ করে লেবাননে, যেখানে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই করছে ইসরায়েল।

তবে ইরানের প্রস্তাব দ্রুত প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এটিকে “পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের জবাবে যুদ্ধজনিত ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয় এবং হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের সার্বভৌম অধিকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

এ ছাড়া আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে হামলা না করার নিশ্চয়তা, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর মার্কিন বিধিনিষেধ বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে।

এর কয়েক ঘণ্টা পরই ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ লিখেন, “আমার এটা পছন্দ হয়নি। পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।” যদিও তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

মার্কিন প্রস্তাবে প্রথমে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করে পরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরুর কথা ছিল বলে জানা গেছে।

জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা

সংঘাত নিরসনে অগ্রগতি না হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৩ ডলার বেড়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় অচল থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে।

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন হতো। ফলে প্রণালিটি এখন পুরো সংঘাতের কেন্দ্রীয় কৌশলগত অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।

মার্কিন রাজনীতিতেও চাপ

জরিপ অনুযায়ী, দীর্ঘায়িত এই সংঘাত মার্কিন ভোটারদের মধ্যে খুব বেশি জনপ্রিয় নয়। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ বাড়ছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক মাস বাকি থাকায় রিপাবলিকান পার্টির জন্য বিষয়টি রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে। কংগ্রেসে দলটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সমর্থনেও ঘাটতি

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণ সমর্থন পায়নি। ন্যাটোভুক্ত মিত্র দেশগুলো পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি ও আন্তর্জাতিক ম্যান্ডেট ছাড়া হরমুজ প্রণালি খুলতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে।

এ অবস্থায় পরবর্তী কূটনৈতিক বা সামরিক পদক্ষেপ কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

বেইজিং সফরে ইরান ইস্যু

আগামী বুধবার ডোনাল্ড ট্রাম্পর বেইজিং সফরের কথা রয়েছে। সেখানে শি জিনপিংর সঙ্গে বৈঠকে ইরান সংকট ও বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/9988 ,   Print Date & Time: Sunday, 11 October 2026, 05:16:33 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh