• হোম > বাংলাদেশ > একনেকে উঠছে সাড়ে ৩৩ হাজার কোটি টাকার পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প

একনেকে উঠছে সাড়ে ৩৩ হাজার কোটি টাকার পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প

  • সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ১১:২০
  • ৬৩

---

তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম বড় প্রতিশ্রুতি ছিল পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ। দীর্ঘ কয়েক দশকের আলোচনা ও পরিকল্পনার পর অবশেষে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৩ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপনের কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী, কৃষি, জীববৈচিত্র্য এবং সুপেয় পানির সংকট মোকাবিলায় বড় পরিবর্তন আসবে। প্রায় ৬২৩টি ছোট-বড় নদ-নদীতে পানিপ্রবাহ ফিরবে এবং প্রায় ৪৭ লাখ ৭৭ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারিত হবে।

দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তবায়ন

১৯৬০-এর দশক থেকেই ফরিদপুর অঞ্চল, খুলনা অঞ্চল, বরিশাল অঞ্চল ও রাজশাহী অঞ্চল-এর নদী ও কৃষি রক্ষায় পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের দাবি উঠেছিল। তবে নানা কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার প্রকল্পটি একনেকে তোলার উদ্যোগ নিলেও পরে সরে আসে। ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর বর্তমান সরকার নতুন করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়।

দুই ধাপে ৫২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্প দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে প্রায় ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্যারাজ, স্পিলওয়ে গেট, নেভিগেশন লক, ফিশ পাস ও হাইড্রোপাওয়ার অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। বাস্তবায়নকারী সংস্থা হচ্ছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড।

চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে আগামী মাসে কাজ শুরু হয়ে ২০৩৩ সালের জুনে শেষ হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

পাউবোর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ বলেন, প্রথম পর্যায়ে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ, গড়াই অফটেক স্ট্রাকচার, চন্দনা নদীর মুখে কন্ট্রোল স্ট্রাকচার এবং গুরুত্বপূর্ণ নদী ব্যবস্থার উন্নয়ন ও খনন কাজ হবে। পাশাপাশি গড়াই অংশে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাও রাখা হবে।

তার মতে, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা ও এর শাখা নদীগুলোতে পানিপ্রবাহ নিশ্চিত হবে এবং সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাবে। এতে আবাদ বাড়বে এবং অনেক এলাকায় বছরে একাধিক ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে।

কী থাকছে পদ্মা ব্যারাজে

উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী, পাংশা উপজেলা এলাকায় মূল ব্যারাজ নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হবে—

  • ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারাজ
  • ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট (প্রতিটির প্রস্থ ১৮ মিটার)
  • ১৮টি আন্ডার স্লুইস গেট
  • ১৪ মিটার প্রশস্ত নেভিগেশন লক
  • দুটি ২০ মিটার প্রশস্ত ফিশ পাস

এছাড়া গড়াই ও মধুমতী নদী ড্রেজিং, হিসনা নদী সিস্টেম পুনঃখনন, এফ্লাক্স বাঁধ এবং চন্দনা ও হিসনা অফটেক অবকাঠামো নির্মাণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

১৯ জেলার মানুষ উপকৃত হবে

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চার বিভাগের ১৯ জেলার ১২০ উপজেলার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে।

পদ্মা নদী ও যমুনা নদীর শাখা নদী হিসনা, মাথাভাঙ্গা, গড়াই, মধুমতি, চন্দনা, বড়াল ও ইছামতিসহ প্রায় ৬২৩টি নদ-নদীতে পানিপ্রবাহ বাড়বে।

এর ফলে—

  • দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা কমবে
  • সুন্দরবন-এর জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে
  • যশোরের ভবদহসহ বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতা হ্রাস পাবে
  • কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বাড়বে
  • সুপেয় পানির সংকট কমবে

জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা

পদ্মা ব্যারাজ ও গড়াই অফ-টেক স্ট্রাকচারে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। বছরে প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

একই সঙ্গে শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ব্যারাজ থেকে প্রতি সেকেন্ডে ন্যূনতম ৫৭০ ঘনমিটার পানি ছাড়া হবে।

গবেষকদের মতামত

লেখক ও গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, ব্যারাজ নির্মাণ করে পানি সংরক্ষণ করা গেলে রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত নদীর পানির স্তর তুলনামূলক উঁচু রাখা সম্ভব হবে। সংরক্ষিত পানি বিভিন্ন নদীপথে প্রবাহিত করে শুকনো মৌসুমে নদীগুলো সচল রাখা যাবে।

একনেকে উঠছে প্রকল্প

পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লীপ্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য মো. মাহমুদুল হোসাইন খান জানান, বহু বছর ধরে প্রকল্পটির সমীক্ষা ও সম্ভাব্যতা যাচাই হয়েছে। ডিপিপি যাচাই-বাছাই শেষে এটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।

এর আগে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সাংবাদিকদের বলেন, প্রকল্পটির কারিগরি সমীক্ষা প্রায় শেষ হয়েছে এবং একনেক সভায় এটি উপস্থাপন করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষের জন্য প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/9984 ,   Print Date & Time: Sunday, 11 October 2026, 03:46:50 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh