• হোম > দেশজুড়ে | বাংলাদেশ > হামের সংক্রমণ রোধে ৯৮% লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের দাবি সরকারের, দ্বিমত ইউনিসেফের

হামের সংক্রমণ রোধে ৯৮% লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের দাবি সরকারের, দ্বিমত ইউনিসেফের

  • রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ১৪:২৬
  • ৮১

---

দেশে হামের সংক্রমণ ক্রমেই বাড়ছে। মাসব্যাপী চলমান টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে সরকার জানিয়েছে, প্রায় পৌনে দুই কোটি শিশুর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৯৮ শতাংশ শিশু টিকার আওতায় এসেছে। তবে ইউনিসেফের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শহরাঞ্চলে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ এবং গ্রামাঞ্চলে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ শিশু এখনও টিকার বাইরে রয়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন হলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় টিকাকেন্দ্রে প্রতিদিনই অভিভাবকদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি এবং হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে অভিভাবকরা শিশুদের নিয়ে নিয়মিত টিকাকেন্দ্রে আসছেন।

এক অভিভাবক বলেন, টিকাই হামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ, অন্য কোনো নিশ্চিত চিকিৎসা নেই।

সরকার জানিয়েছে, টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৯৮ শতাংশ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

তবে ক্যাম্পেইনের সহযোগী সংস্থা ইউনিসেফ বলছে, বাস্তবে অনেক শিশু এখনো বাইরে রয়েছে। সংস্থাটির মতে, ঢাকার বাইরে অন্তত ৩০ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত শিশু টিকার বাইরে থাকতে পারে। অভিভাবকদের মধ্যে ভুল ধারণা রয়েছে যে নিয়মিত টিকা নেওয়া থাকলে অতিরিক্ত টিকার প্রয়োজন নেই। ইউনিসেফ বলছে, এই ক্যাম্পেইনের টিকা একটি অতিরিক্ত সুরক্ষা ডোজ।

এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি শুধু হাম নয়, মোট নয় ধরনের টিকার মাধ্যমে প্রায় বারোটি রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশুর জীবন রক্ষা করে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, টিকাদান কার্যক্রমে ধীরগতি থাকলে আগে নিয়ন্ত্রণে থাকা রোগগুলো আবারও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে ভিটামিন এ প্লাস কর্মসূচিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কম সক্রিয় হয়েছে বলে জানা গেছে। অপুষ্টি, মায়ের বুকের দুধ কম খাওয়া এবং ভিটামিনের ঘাটতি হামের জটিলতা ও শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

এক শিশু বিশেষজ্ঞ জানান, দেশে কিছু অঞ্চলে শিশুদের মধ্যে ভিটামিনের ঘাটতি এবং অপুষ্টির হার তুলনামূলকভাবে বেশি, যা সংক্রমণকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুপুষ্টির ঘাটতি এবং টিকাদানে ঘাটতি একসঙ্গে চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে এবং বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/9970 ,   Print Date & Time: Saturday, 10 October 2026, 11:18:16 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh