![]()
সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক আন্তর্জাতিক বিজনেস ও ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যাটফর্ম Global Report FBI-তে প্রকাশিত হয়েছে Sakif Shamim-এর একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার। বৈশ্বিক ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা, বিনিয়োগ ও উদ্ভাবন নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী কনটেন্ট প্রকাশের জন্য পরিচিত এই প্ল্যাটফর্মে তিনি তুলে ধরেছেন Labaid Cancer Hospital-এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের সম্ভাবনা এবং AI-নির্ভর চিকিৎসা প্রযুক্তি নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি। সেই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকারটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরলো Entrepreneur Bangladesh।
সাক্ষাৎকার
সাকিফ শামীম
ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ল্যাব এইড ক্যান্সার হাসপাতাল
এ পর্যন্ত ৩ লাখেরও বেশি রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া ল্যাব এইড ক্যান্সার হাসপাতাল বর্তমানে এ অঞ্চলের অন্যতম শীর্ষ অনকোলজি (ক্যানসার চিকিৎসা) কেন্দ্র। এই সাক্ষাৎকারে হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিফ শামীম তুলে ধরেছেন হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পেছনের ভাবনা এবং কীভাবে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা দেশেই নিশ্চিত করা হচ্ছে।
প্রশ্ন: ২০২১ সালে ল্যাব এইড ক্যান্সার হাসপাতাল ও সুপার স্পেশালিটি সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আপনার ভিশন কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে?
সাকিফ শামীম:
ল্যাবএইড ক্যানসার হাসপাতাল মূলত আমার এবং আমার বাবার স্বপ্নের প্রকল্প। গত এক দশকে বাংলাদেশে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে অনেক রোগী চিকিৎসার জন্য ভারত, ব্যাংকক কিংবা সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন—মূলত দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি সীমিত আস্থার কারণে।
ল্যাবএইডের ৪০ বছরেরও বেশি সময়ের স্বাস্থ্যসেবা অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমি আরও গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি কিছু গড়ে তুলতে চেয়েছিলাম।
শুরু থেকেই আমি তিনটি বিষয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি—রোগীকেন্দ্রিক সেবা, নৈতিক চিকিৎসাচর্চা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা। আমরা এই নীতিগুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করি। এখন পর্যন্ত আমরা ৩ লাখের বেশি রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছি এবং প্রতিটি নতুন রোগীর কেস বাধ্যতামূলকভাবে মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিউমার বোর্ডে পর্যালোচনা করা হয়।
আজ আমি বিশ্বাস করি, চিকিৎসার মান, ক্যানসার সারভাইভাল আউটকাম, জটিল রোগ ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক অপারেশন থিয়েটারের সক্ষমতার দিক থেকে আমরা এই অঞ্চলের সেরাদের মধ্যে অন্যতম।
বাংলাদেশে আমরাই একমাত্র হাসপাতাল যারা জয়েন্ট কমিশন ইন্টারন্যাশনাল (JCI) স্বীকৃতি এবং LEED Gold সার্টিফিকেশন অর্জন করেছে। আমাদের হাসপাতাল প্রচলিত হাসপাতালের তুলনায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম জ্বালানি ব্যবহার করে। পাশাপাশি আমরা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই।
প্রশ্ন: ল্যাবএইডের সুনাম ধরে রাখতে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাঠক, অংশীদার ও ক্লায়েন্টদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে আপনারা কীভাবে কাজ করছেন?
সাকিফ শামীম:
রোগীসেবার মান নিশ্চিত করতে আমরা Six Sigma এবং Lean Management পদ্ধতিকে একটি মানসিকতা হিসেবে অনুসরণ করি। শুরু থেকেই আমরা প্রশিক্ষণ এবং জটিল রোগী ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত কঠোর ছিলাম, বিশেষ করে লিনিয়ার অ্যাক্সিলারেটর ও ব্র্যাকিথেরাপির মতো উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর সেবাগুলোর ক্ষেত্রে।
আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে আমরা সিঙ্গাপুর সরকার ও Singapore General Hospital-এর সঙ্গে কাজ করছি। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও আমাদের অংশীদারত্ব রয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাঠকদের জন্য বলতে চাই—ল্যাবএইড শুধু একটি হাসপাতালের নাম নয়। বর্তমানে আমরা পাঁচটির বেশি হাসপাতাল পরিচালনা করছি, আরও পাঁচটি হাসপাতাল নির্মাণাধীন রয়েছে। এছাড়া আমাদের রয়েছে ৪৫টি অ্যাম্বুলেটরি কেয়ার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
আমাদের ফার্মাসিউটিক্যাল কার্যক্রমও রয়েছে, পাশাপাশি ১০ হাজারের বেশি অংশীদার ফার্মেসি ও সেবাদাতাকে নিয়ে আমরা একটি বৃহৎ স্বাস্থ্যসেবা প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করছি।
এভাবে আমরা একটি ৩৬০-ডিগ্রি স্বাস্থ্যসেবা ইকোসিস্টেম তৈরি করেছি, যা বাংলাদেশে এ ধরনের প্রথম বৃহৎ উদ্যোগ বলে আমরা মনে করি। ভবিষ্যতে এটি অন্যান্য দেশেও বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
আগামী পাঁচ বছরে আমরা আরও ২,৫০০ শয্যা যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছি, যার মধ্যে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে নতুন হাসপাতাল থাকবে। পাশাপাশি সারাদেশে ৩০টি স্যাটেলাইট ক্যানসার সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। মূল ক্যানসার হাসপাতালটি হবে কেন্দ্রীয় হাব, আর স্যাটেলাইট সেন্টারগুলো স্থানীয় পর্যায়ে সেবা দেবে—যাতে রোগীদের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আসতে না হয়। এতে চিকিৎসা আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী হবে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান স্বাস্থ্যসেবা খাতে আপনাদের প্রধান শক্তিগুলো কী এবং শীর্ষ মেডিকেল প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিজেদের কীভাবে অবস্থান করাচ্ছেন?
সাকিফ শামীম:
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং উচ্চ জনঘনত্ব দেশের জন্য বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে। দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ তরুণ, ফলে স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন এবং এর ফলে দেশের বিপুল অর্থ বাইরে চলে যাচ্ছে। উন্নতমানের স্বাস্থ্যসেবা দেশে গড়ে তুলতে পারলে এই পরিস্থিতি বদলানো সম্ভব এবং “রিভার্স মেডিকেল ট্যুরিজম” তৈরি হতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বাংলাদেশে বর্তমানে মাত্র প্রায় ৩০টি লিনিয়ার অ্যাক্সিলারেটর রয়েছে, অথচ প্রয়োজন ২০০টিরও বেশি। এটি স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগের বিশাল সুযোগ নির্দেশ করে।
আমরা বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি “প্রথম” উদ্যোগ নিয়েছি। এর মধ্যে রয়েছে দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার হাসপাতাল এবং প্রথম লিভার ট্রান্সপ্লান্ট। এছাড়া আমরা বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট সেন্টার ও ব্লাড ক্যানসারের জন্য সেল থেরাপি চালুর পরিকল্পনাও করছি।
আমরা মানুষ ও অবকাঠামো—দুই ক্ষেত্রেই বিনিয়োগ করছি এবং দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করছি।
প্রশ্ন: বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি ও দ্রুত পরিবর্তনশীল চিকিৎসা প্রযুক্তির যুগে গবেষণা, উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কীভাবে পরিচালনা করছেন?
সাকিফ শামীম:
আমরা আমাদের আয়ের একটি বড় অংশ পুনরায় বিনিয়োগ করি। মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধি, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং নতুন সক্ষমতা তৈরিতে আমরা নিয়মিত বিনিয়োগ করছি—যাতে বিশ্বের শীর্ষ হাসপাতালগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা যায়।
আমরা বড় বড় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির সঙ্গে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনা করি এবং পরীক্ষামূলক ওষুধ নিয়েও কাজ করছি। প্রতি বছর আমাদের গবেষণা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত হয়।
প্রশ্ন: প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে হাসপাতালটি যখন আইপিওর প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির সুযোগগুলো ধরতে আপনারা কীভাবে নিজেদের প্রস্তুত করছেন?
সাকিফ শামীম:
আমরা প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়েছি, যা স্যাটেলাইট ক্যানসার সেন্টার নির্মাণ এবং কিছু ঋণ কমাতে ব্যবহার করা হবে। প্রতিটি স্যাটেলাইট সেন্টারের জন্য আনুমানিক ২০ থেকে ৪০ লাখ ডলার প্রয়োজন হবে।
আমার বাবা আশির দশকে এই ব্যবসা শুরু করেছিলেন। একজন চিকিৎসক হিসেবে মানুষের জীবনমান উন্নত করাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য, আর সেই দর্শনই আমাকে প্রভাবিত করেছে।
বিগত বছরগুলোতে আমি দেশি ও বিদেশি রোগীদের নানা অভিজ্ঞতা শুনেছি এবং কাছ থেকে দেখেছি তারা কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন।
৪০ বছরের যাত্রায় ল্যাবএইড শুধু একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং প্রয়োজনভিত্তিক একটি বহুমাত্রিক গ্রুপে পরিণত হয়েছে। প্রথমে আমরা কার্ডিয়াক হাসপাতাল করেছি, এরপর ক্যানসার হাসপাতাল, পরে নিউরোলজিসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত সেবা যুক্ত করেছি এবং রিয়েল এস্টেট খাতেও প্রবেশ করেছি।
আমরা নিজস্ব কৃষি ব্যবস্থাপনাও পরিচালনা করি, যেখান থেকে রোগী, স্বজন ও চিকিৎসকদের জন্য খাদ্য সরবরাহ করা হয়।
প্রশ্ন: বিভিন্ন পুরস্কার, JCI স্বীকৃতি এবং LEED Gold সার্টিফিকেশন অর্জনে কোন অপারেশনাল সাফল্যগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
সাকিফ শামীম:
গত সাড়ে চার বছরে JCI স্বীকৃতি অর্জনের যাত্রা ছিল সবচেয়ে কঠিন, আবার সবচেয়ে গর্বেরও। JCI কেবল একটি স্বীকৃতি নয়; এটি রোগীদের প্রতি অঙ্গীকার এবং আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃতি।
এই স্বীকৃতির মাধ্যমে আমাদের হাসপাতালকে বিশ্বের শীর্ষ হাসপাতালগুলোর সঙ্গে তুলনা করা যায়, কারণ আমরা একই মানদণ্ড অনুসরণ করি।
মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়বহুল এবং এটি ধরে রাখা আরও কঠিন। শুরুতে আমাদের অনেক কর্মী ও কনসালট্যান্টের JCI সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা ছিল না। ধীরে ধীরে আমরা সবাইকে প্রশিক্ষিত করেছি এবং একই মানদণ্ডে নিয়ে এসেছি।
আমাদের চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মীরা অসাধারণ সহযোগিতা করেছেন। এটি ছিল পুরো টিমের সম্মিলিত অর্জন, আর এর সম্পূর্ণ কৃতিত্ব আমি আমার টিমকেই দিতে চাই।
প্রশ্ন: “Labaid Artificial Intelligence”-এর মতো প্রযুক্তি বিনিয়োগ আপনার উদ্ভাবনী চিন্তাধারা এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আপনার দৃষ্টিভঙ্গিকে কীভাবে প্রতিফলিত করে?
সাকিফ শামীম:
আমরা এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে প্রবেশ করছি। বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠান মাইক্রোচিপ ও সেমিকন্ডাক্টরের মতো হার্ডওয়্যারে বিনিয়োগ করছে, আর আমরা বড় ভাষাভিত্তিক মডেল (Large Language Model) ও অ্যাপ্লিকেশনভিত্তিক সমাধানে কাজ করছি।
আমরা পাঁচ বিলিয়নেরও বেশি প্যারামিটারসমৃদ্ধ একটি মডেল তৈরি করেছি, যা চিকিৎসকদের জন্য “সেকেন্ড ওপিনিয়ন” টুল হিসেবে কাজ করে। চিকিৎসকরা রেডিওলজি রিপোর্টসহ বিভিন্ন তথ্য আপলোড করলে এটি একটি দ্বিতীয় মতামত দেয়—এক ধরনের মেডিকেল ChatGPT হিসেবে।
চিকিৎসা সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে এটি শুধু চিকিৎসক ও কনসালট্যান্টদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
আমরা “LUNA” নামে একটি সাধারণ AI চ্যাটবটও চালু করেছি, যেখানে আট ধরনের ক্যারেক্টার মোড রয়েছে। এটি ব্যক্তিগত ম্যানেজারের মতো কাজ করতে পারে। অনুমতি পেলে এটি ব্যবহারকারীর আচরণ ও কেনাকাটার ধরণ বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারে এবং অটো-চেকআউটের মতো কাজও করতে পারে।
আমরা এই মডেলগুলোকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিচ্ছি, যাতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের সক্ষমতা আরও বাড়ে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য এখন কেন সঠিক সময়, এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য আপনার বার্তা কী?
সাকিফ শামীম:
বাংলাদেশ এখন একটি বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যাকে আমি “নতুন বাংলাদেশ” বলে উল্লেখ করি—বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবের পর। এই সময়ে আমরা অনেক তরুণ প্রাণ হারিয়েছি, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি এটি একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই এসেছে। বাংলাদেশ এখন সরকার, স্বাস্থ্যসেবা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডাটা সার্ভিস, ডাটা সেন্টার এমনকি প্রতিরক্ষা সরঞ্জামসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের জন্য আরও উন্মুক্ত হচ্ছে।
দেশটি টেকসই প্রবৃদ্ধির দিকে এগোতে চায় এবং আন্তর্জাতিক মহলও এই যাত্রাকে সমর্থন করছে বলে আমি মনে করি। যদিও এখনো কিছু আমলাতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, আমরা আশা করি ধীরে ধীরে সেগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
আমরা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি “ওয়ান-স্টপ সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম” তৈরি করেছি। বাংলাদেশের উর্বর ভূমি, তরুণ কর্মশক্তি, উচ্চাকাঙ্ক্ষী মানুষ এবং প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি রয়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা ও বিনিয়োগ পেলে বাংলাদেশ একদিন ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতেও পরিণত হতে পারে।
প্রশ্ন: আপনার অতীত অভিজ্ঞতাগুলো আজকের নেতৃত্বগুণকে কীভাবে প্রভাবিত করেছে?
সাকিফ শামীম:
আমি গত ১৬ থেকে ১৭ বছর ধরে নিরলসভাবে কাজ করেছি। আমি কাজের পরিমাণের চেয়ে “গুণগত সময়”কে বেশি গুরুত্ব দিই। মানুষ এবং ব্যবসাকে মানসম্মত সময় দেওয়া—এটাই প্রবৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি বলে আমি মনে করি।
আমি শিখেছি, অর্থ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ধৈর্য, চাপের মধ্যে কাজ করার ক্ষমতা এবং কঠিন পরিস্থিতিতে স্থির থাকা।
গত ১৫ বছরে আমি নানা ধরনের সংকট মোকাবিলা করেছি—কোভিড-১৯ মহামারি, তারল্য সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মুদ্রার চাপ এবং মূল্যস্ফীতির মতো পরিস্থিতিও ছিল এর মধ্যে।
এই অভিজ্ঞতাগুলো আমাকে লক্ষ্য ধরে রাখতে, ধাপে ধাপে অগ্রাধিকার সম্পন্ন করতে এবং সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে শিখিয়েছে। কারণ সবার কাছেই প্রতিদিন একই ২৪ ঘণ্টা থাকে।
প্রশ্ন: হাসপাতাল বা আপনার অন্যান্য উদ্যোগ সম্পর্কে এমন কিছু কি আছে, যা আমরা এখনো আলোচনা করিনি?
সাকিফ শামীম:
আমরা বর্তমানে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগে ৭৫০ শয্যার একটি সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতাল নির্মাণ করছি। এটি হবে একটি কোয়াটারনারি-লেভেল স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, যা নিউইয়র্কের Mount Sinai কিংবা Massachusetts General Hospital-এর মানের সঙ্গে তুলনীয় হবে।
এটি আমাদের পরবর্তী বড় বিনিয়োগ, এবং আমরা বিশ্বাস করি এটি শুধু বাংলাদেশের রোগীদের নয়, বরং মিয়ানমার ও নেপালের মতো প্রতিবেশী দেশের রোগীদেরও আকৃষ্ট করবে।
আমরা শুধু ভারত থেকেই নয়, সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাষ্ট্র থেকেও চিকিৎসক নিয়োগের পরিকল্পনা করছি। আমাদের লক্ষ্য হলো Cleveland Clinic Abu Dhabi-এর মতো একটি মডেল গড়ে তোলা।