![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৭ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৩ ধারায় মামলাটি খারিজ করা হয়েছে। বিচারক বাদীর জবানবন্দি, উপস্থাপিত অভিযোগ এবং প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে মামলাটি এগিয়ে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি পাননি বলেই আবেদনটি নাকচ করা হয়।
এর আগে সকালে নিহত শিক্ষার্থী উক্য ছাইং মার্মার বাবা উসাইমং মার্মা বাদী হয়ে আদালতে মামলার আবেদন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ঘটে যায় ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা।
মামলার আবেদনে বলা হয়, যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমানকে জনবহুল এলাকায় উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া ছিল চরম অবহেলা। এছাড়া অনুপযুক্ত ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর অনুমতি, উদ্ধার তৎপরতায় গাফিলতি, আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত না করা এবং ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করার অভিযোগও তোলা হয়।
বাদীপক্ষের দাবি, এই দুর্ঘটনায় শুধু প্রাণহানিই ঘটেনি, বরং বহু শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। অনেক পরিবার তাদের একমাত্র সন্তান হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
মামলায় আসামি করা হয়েছিল বিমান বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা, রাজউকের কর্মকর্তা, শিক্ষা ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তি, মাইলস্টোন স্কুল কর্তৃপক্ষসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক কয়েকজন উপদেষ্টাকে।
আদালতে উত্থাপিত অভিযোগে বলা হয়, দুর্ঘটনার পর নিহতদের পরিবারকে সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা এলেও বাস্তবে ক্ষতিগ্রস্তদের বড় অংশ এখনো সেই সহায়তা পাননি। ফলে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২১ জুলাই উত্তরার দিয়াবাড়িতে অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনায় ৩৬ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ২৮ জনই ছিলেন শিক্ষার্থী। দুর্ঘটনায় বিমানটির পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামও নিহত হন।