![]()
দেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) ব্যবস্থার আওতায় স্বাস্থ্য খাতের অপারেশনাল পরিকল্পনা স্থগিত থাকার প্রভাব এখন জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা সংকটে রূপ নিয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে হামের টিকা সংকট দেখা দিলেও বর্তমানে তা ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন জেলায়।
সরকারি ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাঁচ বছর মেয়াদি স্বাস্থ্য খাত কর্মসূচি ও এর অপারেশনাল পরিকল্পনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কেন্দ্রীয়ভাবে টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। আগে এই ব্যবস্থার আওতায় জলাতঙ্কের টিকা বিনামূল্যে সরবরাহ করা হলেও এখন তা বন্ধ বা সীমিত হয়ে পড়েছে।
খুলনায় সম্প্রতি পোষা বিড়ালের আঁচড়ে আহত এক শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে টিকা না পেয়ে বাইরে থেকে ৮০০ টাকা দিয়ে টিকা কিনে আনতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। একই ধরনের পরিস্থিতি বগুড়া, নওগাঁ, রাজশাহী ও বরিশালসহ একাধিক জেলায় দেখা গেছে।
কয়েকটি হাসপাতালে সামান্য টিকা থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। কোথাও কোথাও হাসপাতালগুলোকে সীমিত পরিসরে নিজেদের তহবিল থেকে টিকা কিনে রোগীদের দিতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রীয়ভাবে টিকা সংগ্রহ ব্যবস্থার পরিবর্তে ধীরগতির বার্ষিক ক্রয় প্রক্রিয়া চালু হওয়ায় সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিনের অগ্রগতি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে প্রতি বছর কয়েক লাখ মানুষ প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ে আক্রান্ত হন এবং দ্রুত টিকা না পেলে ঝুঁকি মারাত্মক হতে পারে। আগে সমন্বিত কর্মসূচির মাধ্যমে কুকুর ও মানুষ উভয়ের টিকাদান কার্যক্রম চললেও বর্তমানে তা স্থবির হয়ে পড়েছে।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংকট মোকাবিলায় নতুন করে টিকা সংগ্রহ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং ইউনিসেফসহ বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিছু পরিমাণ টিকা কেনার অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে, যা শিগগিরই সরবরাহ বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, কার্যকর সমন্বিত কর্মসূচি ছাড়া জলাতঙ্ক নির্মূলের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।