• হোম > অর্থনীতি > বাজেট ২০২৬-২৭: স্বাস্থ্য-শিক্ষা-প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ, কিন্তু বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা

বাজেট ২০২৬-২৭: স্বাস্থ্য-শিক্ষা-প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ, কিন্তু বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা

  • বুধবার, ৬ মে ২০২৬, ২২:২২
  • ১১৬

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই কৌশলকে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হলেও অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের একাংশ মনে করছেন—বাস্তবায়ন কাঠামো শক্তিশালী না হলে এই উদ্যোগ প্রত্যাশিত সুফল দিতে ব্যর্থ হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, একটি দেশ তখনই উন্নত অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হতে পারে যখন তার মানবসম্পদ দক্ষ, সুস্থ ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়। তিনি মনে করেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রযুক্তির সমন্বিত উন্নয়ন ছাড়া বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের ফাঁদ থেকে বের হতে পারবে না। তবে এই অগ্রাধিকারকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দিতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং স্কিল ডেভেলপমেন্টে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।

অন্যদিকে সাকিফ শামীম স্বাস্থ্যখাতকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, একটি অসুস্থ জনগোষ্ঠী দিয়ে উৎপাদনশীল অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব নয়। যদিও বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে, তবুও তা এখনো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় কম। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসক ও নার্সের ঘাটতি পূরণ এবং স্বাস্থ্যবীমা চালুর ওপর জোর দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, টেলিমেডিসিন, ডিজিটাল হেলথ রেকর্ড এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসা আরও সহজলভ্য হবে। বর্তমানে অধিকাংশ মানুষ নিজের পকেট থেকে চিকিৎসা ব্যয় বহন করে, যা তাদের অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে।

এদিকে ড. ফাহমিদা খাতুন বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতাকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সীমিত রাজস্ব আহরণ এবং ঋণের চাপের মধ্যে উচ্চাভিলাষী বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তাই শুধু বরাদ্দ বৃদ্ধি নয়, বরং সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।

প্রযুক্তিখাতে বিনিয়োগ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডাটা অ্যানালিটিক্স, রোবোটিক্স এবং ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন ছাড়া ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে টিকে থাকা কঠিন। তবে দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি এই খাতের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

সব মিলিয়ে, এই বাজেট একটি সম্ভাবনাময় রূপরেখা তৈরি করলেও বাস্তবায়নের দক্ষতা, নীতি সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপরই নির্ভর করবে এর সফলতা। সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশ একটি দক্ষ, উদ্ভাবনী ও উৎপাদনশীল মানবসম্পদে পরিণত হতে পারবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/9819 ,   Print Date & Time: Friday, 9 October 2026, 08:25:35 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh