• হোম > বিদেশ > ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির সম্ভাবনা জোরালো

ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির সম্ভাবনা জোরালো

  • বুধবার, ৬ মে ২০২৬, ১৯:৩০
  • ৭২

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ সমাপ্তির সম্ভাবনা জোরালো হয়ে উঠেছে। দুই দেশ এখন একটি সংক্ষিপ্ত, এক পাতার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে, যা ভবিষ্যতের একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

মার্কিন প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে ইরানের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়ার আশা করছে ওয়াশিংটন। যদিও এখনো চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা হয়নি, তবুও বিশ্লেষকদের মতে—যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো দুই পক্ষ এতটা কাছাকাছি অবস্থানে এসেছে।

প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো—ইরান তাদের পারমাণবিক ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ মুক্ত করার বিষয়ে সম্মত হতে পারে।

এছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমোজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এই প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায়, এর স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধার আন্তর্জাতিক বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে এই সমঝোতা এখনো একটি প্রাথমিক কাঠামো মাত্র। চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার ঝুঁকি কিংবা দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার আশঙ্কা পুরোপুরি কাটছে না। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন চুক্তি প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে।

এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। সরাসরি ও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তারা ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ১৪ দফার একটি কাঠামো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই কাঠামোর আওতায় ৩০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে বিস্তারিত চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করার চেষ্টা করা হবে। আলোচনার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে ইসলামাবাদ বা জেনেভার নাম শোনা যাচ্ছে।

সমঝোতা অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে ধাপে ধাপে সামরিক উত্তেজনা কমানো হবে এবং হরমোজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করা হবে। তবে আলোচনায় অগ্রগতি না হলে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করবে।

সবচেয়ে জটিল আলোচ্য বিষয়গুলোর একটি হলো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিতের সময়সীমা। ইরান যেখানে ৫ বছরের প্রস্তাব দিয়েছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছর চেয়েছে। আলোচনায় এখন ১২ থেকে ১৫ বছরের একটি সমঝোতার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র একটি বিশেষ ধারা সংযোজন করতে চায়, যাতে শর্ত ভঙ্গ করলে এই সময়সীমা আরও বাড়ানো যায়।

সমঝোতা স্মারকে আরও উল্লেখ রয়েছে—ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের জন্য তাদের স্থাপনাগুলো উন্মুক্ত রাখবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে।

এদিকে সবচেয়ে আলোচিত প্রস্তাবগুলোর একটি হলো—ইরানের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে সরিয়ে নেওয়া। পূর্বে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও বর্তমানে এটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে ইউরেনিয়াম স্থানান্তরের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এটি অত্যন্ত জটিল ও প্রযুক্তিনির্ভর একটি প্রক্রিয়া, তাই একদিনে চূড়ান্ত চুক্তি সম্ভব নয়। তবে তিনি একটি কার্যকর কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেন, যাতে আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবসম্মত অগ্রগতি অর্জন করা যায়।

সব মিলিয়ে, বহু বছরের বৈরিতা ও সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত চুক্তি বাস্তবায়ন হবে কি না, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের কূটনৈতিক অগ্রগতির ওপর।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/9810 ,   Print Date & Time: Saturday, 10 October 2026, 11:12:13 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh