• হোম > অর্থনীতি > যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব: বাংলাদেশে আবারও বাড়ল মূল্যস্ফীতি

যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব: বাংলাদেশে আবারও বাড়ল মূল্যস্ফীতি

  • বুধবার, ৬ মে ২০২৬, ১৯:২৪
  • ৬৬

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের অর্থনীতিতে। এপ্রিল মাসে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.০৪ শতাংশ, যা মার্চ মাসে ছিল ৮.৭১ শতাংশ। ফলে মাসভিত্তিক হিসেবে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বেড়েছে, যদিও বার্ষিক হিসেবে সামান্য কমতি লক্ষ্য করা গেছে।

বুধবার (৬ মে) প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে অর্থাৎ এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.১৭ শতাংশ। সে তুলনায় চলতি বছরে সামান্য কম হলেও সাম্প্রতিক মাসে বৃদ্ধির প্রবণতা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতা—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত পরিস্থিতির প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও পণ্যের দামে অস্থিরতা তৈরি করেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের আমদানি নির্ভর অর্থনীতিতে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে গিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.৩৯ শতাংশ, যা মার্চে ছিল ৮.২৪ শতাংশ। যদিও এই বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে সীমিত, তবুও চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর চাপ বাড়ছে।

অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি আরও দ্রুতগতিতে বেড়েছে। এ খাতে এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯.৫৭ শতাংশ, যেখানে মার্চে ছিল ৯.০৯ শতাংশ। পরিবহন, জ্বালানি, বাসাভাড়া এবং বিভিন্ন সেবাখাতে খরচ বৃদ্ধির কারণে এই খাতে মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি অনুভূত হচ্ছে।

তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের এপ্রিল মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৬৩ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত খাতে ছিল ৯.৬১ শতাংশ। অর্থাৎ, কিছু খাতে সামান্য স্বস্তি থাকলেও সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতির চাপ এখনো উচ্চমাত্রায় রয়ে গেছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বাজার তদারকি জোরদার এবং আমদানি ব্যয় কমানোর কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে সময়োপযোগী নীতিনির্ধারণ জরুরি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভুগছেন সীমিত আয়ের মানুষ। আয় বাড়ার তুলনায় ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তাদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠছে। তাই দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/9808 ,   Print Date & Time: Saturday, 10 October 2026, 10:13:10 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh