![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতের ঘটনায় একদিনেই ছয়জনের প্রাণহানির মর্মান্তিক খবর পাওয়া গেছে। বুধবার নওগাঁ, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও নাটোর জেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে উঠে এসেছে—নিহতদের বেশিরভাগই কৃষক, যারা জীবিকার তাগিদে মাঠে কাজ করতে গিয়ে হঠাৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়েছেন।
নওগাঁ জেলায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। জেলার মহাদেবপুর ও নিয়ামতপুর উপজেলায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে তিনজন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। জানা গেছে, তারা সবাই ধান কাটার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে আকস্মিক বজ্রাঘাতে তারা গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওমর ফারুক জানান, উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের কুড়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা দিলিপ চন্দ্র বর্মন মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মারা যান। অন্যদিকে নিয়ামতপুরে হাজিনগর ও চন্দননগর ইউনিয়নের দুই স্থানে বজ্রপাতে আরও দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে অনুকূল চন্দ্র মাহন্তের নাম জানা গেছে।
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায়ও বজ্রপাত কেড়ে নিয়েছে এক কৃষকের প্রাণ। দক্ষিণ ভোটমারী এলাকায় ভুট্টাক্ষেত থেকে বাড়ি ফেরার পথে ইউসুফ আলী (৩২) নামের এক কৃষক বজ্রপাতে নিহত হন। তিনি তিন সন্তানের জনক ছিলেন এবং সামান্য কৃষি আয়ে পরিবার চালাতেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, তার পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
একই দিনে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান মো. ওবাইদুল। দুপুরের দিকে হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হলে বজ্রসহ বৃষ্টির মধ্যে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নাটোরের লালপুর উপজেলায় পদ্মার চর এলাকায় কৃষি কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে আজিজ মন্ডল (৪৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, নিজ জমিতে কাজ করার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে তার মৃত্যু হয়।
এই ধারাবাহিক বজ্রপাতের ঘটনায় গ্রামীণ জনপদে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশে বজ্রপাতের প্রবণতা বাড়ছে। এ অবস্থায় কৃষকসহ খোলা স্থানে কাজ করা মানুষের জন্য আগাম সতর্কতা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।
স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা নিহত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিলেও, দীর্ঘমেয়াদে বজ্রপাত থেকে প্রাণহানি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে। বিশেষ করে কৃষিকাজের সময় আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানা এবং ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে মাঠে না যাওয়ার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।