![]()
আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের সব নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ চলমান জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২৬ এর পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আগেও বলেছি, এখনো বলছি— আমরা চেষ্টা করব আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের সব নির্বাচন সম্পন্ন করার।”
তিনি জানান, জেলা প্রশাসক সম্মেলনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং সমন্বয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। জেলা প্রশাসকদের দেওয়া বিভিন্ন পরামর্শ সরকার গ্রহণ করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, স্থানীয় সরকার হচ্ছে গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় ভিত্তি এবং তৃণমূলের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। তার ভাষায়, “এই ইনস্টিটিউশনকে শক্তিশালী করতে পারলে গণতন্ত্রও শক্তিশালী হবে।”
তিনি আরও বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্ব দিতে হবে এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে হবে। “জনগণই হচ্ছে এই দেশের মালিক”— মন্তব্য করেন তিনি।
স্থানীয় অবকাঠামো পরিস্থিতির প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গত দুই বছরে স্থানীয় পর্যায়ের রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোর সংস্কারে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তবে স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব শুধু সড়ক সংস্কারে সীমাবদ্ধ নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তার মতে, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নসহ স্থানীয় জনগণের নানা মৌলিক সেবার দায়িত্বও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার ওপর বর্তায়।
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, গত ১৬ বছরে স্থানীয় সরকারের যোগাযোগ ও সমন্বয় কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এ সময় ব্যাপক দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে। তিনি জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এসব দুর্নীতির তদন্ত করবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অনিয়ম না ঘটে, সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসক সম্মেলনের মতো মতবিনিময় সভা প্রতি বছর আয়োজন করা প্রয়োজন, কারণ এতে মাঠ প্রশাসন ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে ওঠে।