![]()
আল জাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি অভিযান ঘোষণা করেছেন। তিনি এটিকে মানবিক উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, এই পরিস্থিতিতে আটকে পড়া জাহাজ, কোম্পানি ও দেশগুলো কোনো দোষে জড়িত নয়, বরং তারা পরিস্থিতির শিকার।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অনুরোধেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই অভিযানে সহায়তা করবে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ, শতাধিক বিমান, ড্রোন এবং প্রায় ১৫ হাজার সেনা মোতায়েন করা হতে পারে।
তবে এই উদ্যোগের মধ্যেই উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরান দাবি করেছে, জাস্ক এলাকার কাছে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র তা অস্বীকার করেছে। এ ধরনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। প্রণালিটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রপ্তানি পথ হওয়ায় এখানে অচলাবস্থা বিশ্ববাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে, বিশেষ করে তেলের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এছাড়া প্রায় দুই হাজার জাহাজ ও ২০ হাজার নাবিক বর্তমানে এই অঞ্চলে আটকে আছেন বলে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন জানিয়েছে। খাবার, জ্বালানি ও পানির সংকটও দেখা দিয়েছে অনেক জাহাজে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে তা শুধু সামুদ্রিক নিরাপত্তাই নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।