• হোম > বাংলাদেশ > পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় আর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ: যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় আর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ: যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

  • মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬, ১২:০৮
  • ৮০

---

২০২৬ সালের West Bengal Legislative Assembly Election 2026-এ Bharatiya Janata Party (বিজেপি)-র বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকা শুধু পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেই নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা All India Trinamool Congress (টিএমসি)-কে পেছনে ফেলে বিজেপি ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৬টিতে এগিয়ে থেকে সরকার গঠনের পথে রয়েছে।

এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতিও ছিল রেকর্ডসংখ্যক। স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো ভোটদানের হার ৯২.৯৩ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই রাজনৈতিক পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্যও নতুন কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ, তিস্তা পানি বণ্টন এবং আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের মতো ইস্যুগুলো নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক Amena Mohsin মনে করেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ক্ষমতায় আসা তিস্তা চুক্তির অচলাবস্থা দূর করার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তার ভাষায়, এতদিন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করে এসেছে যে Mamata Banerjee-এর আপত্তির কারণেই তিস্তা চুক্তি আটকে ছিল। এখন কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দল ক্ষমতায় থাকায় নয়াদিল্লির জন্য এই চুক্তি এগিয়ে নেওয়া সহজ হতে পারে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বিজেপিকে বাংলাদেশের সামাজিক ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতা মাথায় রাখতে হবে। উসকানিমূলক বা মুসলিম-বিরোধী বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সাবেক কূটনীতিক M Humayun Kabir মনে করেন, ঢাকা-কলকাতা সম্পর্ক সবসময়ই ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের অংশ হিসেবেই পরিচালিত হয়। তার মতে, বিজেপি এখন কেন্দ্র ও পশ্চিমবঙ্গ—উভয় জায়গায় ক্ষমতায় থাকায় নয়াদিল্লির নীতিই শেষ পর্যন্ত প্রাধান্য পাবে।

তবে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিজেপি যদি পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি বা মুসলিম-বিরোধী রাজনীতি আরও জোরালোভাবে সামনে আনে, তাহলে সীমান্তে উত্তেজনা বাড়তে পারে এবং বাংলাদেশের ওপর “পুশ-ইন” বা জোরপূর্বক অভিবাসনের চাপ তৈরি হতে পারে।

গবেষক Altaf Parvez মনে করেন, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে বিজেপির একযোগে শক্তিশালী অবস্থান সীমান্ত রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলবে। তার মতে, এর ফলে বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা বাড়তে পারে এবং দুই দেশের সীমান্তে নতুন চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক Asif Shahan তুলনামূলকভাবে আশাবাদী। তিনি মনে করেন, জাতীয় পর্যায়ে বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব নাও পড়তে পারে। বরং বিজেপির সঙ্গে নতুন করে আলোচনা ও সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সামাজিক পর্যায়ে ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে তিনি সতর্ক করেন।

গবেষক ও লেখক Firoz Ahmed বলেন, বিজেপির উগ্র রাজনৈতিক ভাষা বাংলাদেশের স্থানীয় সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলো রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এর ফলে সীমান্ত উত্তেজনা, গুলি ও হত্যার ঘটনা বাড়তে পারে এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে এই রাজনৈতিক পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য একই সঙ্গে সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। একদিকে তিস্তা চুক্তির মতো দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইস্যুতে অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সীমান্ত ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির কারণে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/9738 ,   Print Date & Time: Friday, 9 October 2026, 08:35:16 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh