![]()
Donald Trump দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সাতটি দ্রুতগামী ‘গানবোট’ ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তার ভাষায়, পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনার অভিযানের অংশ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, “আমরা সাতটি ছোট নৌকা বা যেগুলোকে তারা ‘ফাস্ট বোট’ বলে, সেগুলো ধ্বংস করেছি। তাদের আর এটাই অবশিষ্ট ছিল।” মার্কিন সামরিক বাহিনীর বরাতে জানা গেছে, হেলিকপ্টার ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হয়।
তবে ইরান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। Tasnim News Agency এক সামরিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আসলে দুটি ছোট মালবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যাতে পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, তাদের যুদ্ধজাহাজ ও মার্কিন পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ সোমবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। কিন্তু ইরান এই বক্তব্যকে “সম্পূর্ণ মিথ্যা” বলে অভিহিত করে। ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের দিকে সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছে, যদিও ওয়াশিংটন তা অস্বীকার করেছে।
এদিকে বিশ্বখ্যাত শিপিং কোম্পানি Maersk নিশ্চিত করেছে, তাদের জাহাজ ‘Alliance Fairfax’ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পাহারায় জাহাজটি নিরাপদে পারস্য উপসাগর ত্যাগ করে। এই অভিযানের নাম দিয়েছেন ট্রাম্প—‘Project Freedom’।
একই দিনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ADNOC-এর একটি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালিতে হামলার শিকার হয়। পাশাপাশি আমিরাত উপকূলে নোঙর করা দক্ষিণ কোরিয়ার একটি জাহাজেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
আমিরাত জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোড়া ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, তিনটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং চারটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে Fujairah Port-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।
আবুধাবি এই হামলাকে “বিপজ্জনক উস্কানি” হিসেবে উল্লেখ করে পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার সংরক্ষণের কথা জানিয়েছে। যদিও ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক অজ্ঞাত সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্যবস্তু করার কোনো পরিকল্পনা তেহরানের নেই।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi বলেন, হরমুজ প্রণালির সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে রাজনৈতিক সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই। তিনি ট্রাম্পের ‘Project Freedom’-কে ব্যঙ্গ করে “Project Deadlock” বলে উল্লেখ করেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর থেকেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ Strait of Hormuz কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে আছে। এর জবাবে তেহরান এই নৌপথে কড়াকড়ি আরোপ করে। যদিও এপ্রিলের শুরুতে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়, তারপরও খুব কম বাণিজ্যিক জাহাজ এই পথ ব্যবহার করতে সাহস করছে।
ফুজাইরাহ বন্দরে হামলার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামও দ্রুত বেড়ে যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
এ ঘটনায় বিশ্বনেতারাও উদ্বেগ জানিয়েছেন। Emmanuel Macron হামলাকে “অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে Keir Starmer বলেছেন, উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তায় যুক্তরাজ্য সবসময় পাশে থাকবে।