• হোম > অর্থনীতি > ভ্যাট সংস্কার এখন সময়ের দাবি: অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে CSER-এর প্রস্তাব

ভ্যাট সংস্কার এখন সময়ের দাবি: অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে CSER-এর প্রস্তাব

  • সোমবার, ৪ মে ২০২৬, ২৩:২০
  • ৯৩

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। স্বল্পোন্নত দেশের (LDC) তালিকা থেকে উত্তরণের পথে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জও সামনে আসছে। এই প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার পাশাপাশি রাজস্ব আহরণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কর ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও টেকসই করে তোলা এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি হয়ে উঠেছে।

এমন বাস্তবতায় ভ্যাট (Value Added Tax) ব্যবস্থার গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের ভ্যাট ব্যবস্থায় ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও বর্তমান কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর নয়। আইনের জটিলতা, সংজ্ঞার অস্পষ্টতা এবং প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা—এই তিনটি প্রধান সমস্যা ভ্যাট ব্যবস্থার কার্যকারিতা কমিয়ে দিচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে গবেষণা প্রতিষ্ঠান Center for Strategic and Economic Research (CSER) বাজেট ২০২৬–২৭ সামনে রেখে মৌলিক ভ্যাট সংস্কারের একটি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছে।

ভ্যাট আইনের জটিলতা কমানোর প্রস্তাব

বর্তমান ভ্যাট আইনে “economic activity” বা অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সংজ্ঞা অত্যন্ত বিস্তৃত এবং তাত্ত্বিক হওয়ায় বাস্তব প্রয়োগে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। CSER-এর প্রস্তাব অনুযায়ী, ভ্যাটকে একটি লেনদেনভিত্তিক কর হিসেবে বিবেচনা করে “supply” বা সরবরাহকে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। এতে আইন সহজ হবে এবং বাস্তবায়ন কার্যকর হবে।

সংজ্ঞার স্পষ্টতা আনার উদ্যোগ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “money”, “import” এবং “electronic services” এর মতো গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলোর স্পষ্ট সংজ্ঞা না থাকায় কর নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হয়। এ সমস্যা সমাধানে—

  • গিফট ভাউচারকে “money” হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা,
  • আমদানির সংজ্ঞায় সেবাকে যুক্ত করা,
  • এবং ইলেকট্রনিক সেবার সংজ্ঞাকে একীভূত করা—এমন সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া “audit” ও “investigation” এর মতো শব্দের স্পষ্ট সংজ্ঞা প্রদান এবং অপ্রয়োজনীয় সংজ্ঞা বাদ দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

সহজ ভ্যাট হিসাব পদ্ধতির প্রস্তাব

বর্তমানে ভ্যাটসহ মূল্যের মধ্যে কর নির্ধারণ করা অনেক ব্যবসার জন্য জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ভুল, বিলম্ব এবং অনিচ্ছাকৃত কর ফাঁকি তৈরি হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে একটি সহজ ও মানসম্মত “tax fraction” পদ্ধতি প্রস্তাব করেছে CSER, যা ব্যবসায়ীদের জন্য হিসাব সহজ করবে এবং স্বেচ্ছায় কর প্রদানের প্রবণতা বাড়াবে।

ভ্যাট নেট সম্প্রসারণের উদ্যোগ

দেশের অনেক ব্যবসা এখনও ভ্যাটের আওতার বাইরে রয়েছে, যা রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি প্রতিযোগিতায় অসমতা তৈরি করছে। এই অবস্থায় বছরে ৩ কোটি টাকার বেশি লেনদেনকারী ব্যক্তিমালিকানাধীন ব্যবসাকে বাধ্যতামূলকভাবে ভ্যাটের আওতায় আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন ব্যবসাকে অন্তর্ভুক্ত করতে সাময়িক প্রণোদনার কথাও বলা হয়েছে।

ডিজিটাল ভ্যাট ব্যবস্থার ওপর জোর

বর্তমান যুগে ডিজিটাল প্রযুক্তি ছাড়া কার্যকর কর ব্যবস্থা কল্পনা করা কঠিন। বাংলাদেশে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS)-এর ব্যাপক ব্যবহারকে কাজে লাগিয়ে সরাসরি ভ্যাট জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে স্বচ্ছতা বাড়বে, দুর্নীতি কমবে এবং রাজস্ব আদায় সহজ হবে।

আন্তর্জাতিক সেবা ও খাতভিত্তিক বাস্তবতা

CSER প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক সেবাকে “export of service” হিসেবে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করার কথা বলা হয়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়ক হবে। এছাড়া বিমা খাতসহ বিভিন্ন খাতে প্রকৃত মূল্য সংযোজনের ওপর ভিত্তি করে ভ্যাট আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে।

ভারসাম্যপূর্ণ কর ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত কঠোরতা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে, আবার অতিরিক্ত নমনীয়তা রাজস্ব ক্ষতির কারণ হয়। তাই একটি ভারসাম্যপূর্ণ কর কাঠামো প্রয়োজন, যেখানে রাজস্ব আদায় এবং ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ—দুইটিই নিশ্চিত করা সম্ভব।

সব মিলিয়ে, CSER-এর প্রস্তাবনায় তিনটি মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—আইন সহজীকরণ, সংজ্ঞার স্পষ্টতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের ভ্যাট ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/9726 ,   Print Date & Time: Friday, 9 October 2026, 04:04:03 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh