![]()
হাওরাঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য নতুন করে আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রতি মাসে সাড়ে ৭ হাজার টাকা করে তিন মাস ধরে সহায়তা দেওয়া হবে। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের বৈঠক শেষে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে এই সহায়তা নির্ধারণ করা হলেও ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনায় ভবিষ্যতে তা বাড়ানো হতে পারে।
তিনি আরও জানান, হাওর এলাকার কৃষকদের সহায়তায় সরকারের বিভিন্ন তহবিল যেমন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তহবিল ব্যবহার করা হবে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে এবং মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই শেষে অর্থ বিতরণ শুরু হবে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত পুনর্বাসন নিশ্চিত করা, যদিও তিনি স্বীকার করেন যে সম্পূর্ণ ক্ষতি পূরণ করা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়।
এছাড়া কৃষিমন্ত্রী কৃষি উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, কৃষক কার্ড কার্যক্রম চালু হলে কোন এলাকায় কী পরিমাণ ফসল উৎপাদন হচ্ছে তা আগেই জানা যাবে, ফলে পরিকল্পিত উৎপাদনের মাধ্যমে বাজারে ভারসাম্য আনা সম্ভব হবে। এতে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং ভোক্তারাও যুক্তিসংগত দামে পণ্য কিনতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, আলুর বাম্পার ফলন হলেও অনেক সময় কৃষক ন্যায্যমূল্য পান না। এ সমস্যা সমাধানে পরিকল্পিত চাষাবাদ ও তথ্যভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বিশেষ জাতের আলু উৎপাদনে দেশ ইতোমধ্যে সাফল্য অর্জন করেছে বলেও তিনি জানান, যা ভবিষ্যতে রপ্তানির সুযোগ তৈরি করতে পারে।
সীমান্ত দিয়ে গরু আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু সীমান্ত হাটে অনিয়ম দেখা দেওয়ায় সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে এবং বিজিবি নজরদারি জোরদার করেছে। বর্তমানে দেশে গরুর কোনো বড় ঘাটতি নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সব মিলিয়ে সরকার হাওরাঞ্চলের কৃষি পুনরুদ্ধার, বাজার স্থিতিশীলতা এবং আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা জোরদারের মাধ্যমে কৃষিখাতকে আরও সংগঠিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে।