![]()
পারস্য ও ওমান উপসাগরের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে অন্তত ৭৫ জন বাংলাদেশি নাবিক এখনো বিভিন্ন জাহাজে আটকে আছেন বলে জানা গেছে। যুদ্ধ, ফ্লাইট বন্ধ এবং ভিসা জটিলতার কারণে তাদের দেশে ফেরার পথ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ঘরে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে রেখে গত বছরের অক্টোবরে চীনা জাহাজ এমভি হ্যাপি ফরএভার-এ যোগ দেন বাংলাদেশি তৃতীয় ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জায়েদ রনি। তার পরিকল্পনা ছিল মার্চে চুক্তি শেষ করে দেশে ফিরে পরিবারকে সময় দেওয়া, কিন্তু হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে।
বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএমওএ) জানায়, অন্তত সাতটি জাহাজে ৭৫ জনের বেশি বাংলাদেশি নাবিক আটকা পড়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩১ জন রয়েছেন বাংলার জয়যাত্রা-এ, যা বর্তমানে হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থান করছে।
আরও একটি জাহাজ, বসুন্ধরা এলপিজি চ্যালেঞ্জার, প্রায় ২৫ জন নাবিক নিয়ে ওমান উপসাগরে আটকে আছে।
বিদেশি মালিকানাধীন কয়েকটি জাহাজেও বাংলাদেশি নাবিকরা আটকে আছেন, যেমন এমভি ফরএভার হ্যাপি, এমটি লাকি কেম এবং অন্যান্য জাহাজগুলো সৌদি আরবের দাম্মাম ও সোহার এলাকায় অবস্থান করছে।
সংঘাতের মধ্যে ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজ হামলার শিকারও হয়েছে। এমকেডি ভিয়ম জাহাজে বিস্ফোরণে একজন নাবিক নিহত হন। আর এমভি গোল্ড অটাম জাহাজে মিসাইল হামলার ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে কয়েকজন বাংলাদেশি নাবিক উদ্ধার হন।
মোহাম্মদ জায়েদ রনি বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালির ভেতরে আটকে পড়ায় চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও তিনি এখনো জাহাজে অবস্থান করছেন। ফ্লাইট বন্ধ ও ভিসা জটিলতার কারণে দেশে ফেরা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি জানান, জাহাজে থাকা ২৫ জন নাবিকের মধ্যে ১৫ জন বাংলাদেশি, বাকিরা ফিলিপিনো ও ভারতীয়। খাবার ও মানসিক চাপ নিয়েই এখন তাদের দিন কাটছে।
অন্যদিকে একই জাহাজে থাকা আরেক নাবিক নাজমুল হাসান বলেন, খাবার রেশনিং করে চলতে হচ্ছে এবং কয়েক দিনের মধ্যে পানির সংকট দেখা দিতে পারে।
নাবিকদের সংগঠন বিএমএমওএ জানায়, আটকে পড়া নাবিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগে সহায়তা করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদের ফিরিয়ে আনা কঠিন।
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন জানিয়েছে, কিছু জাহাজে স্টারলিংক ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং নাবিকদের যুদ্ধকালীন ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
নৌপরিবহন অধিদপ্তর বলছে, চুক্তিভিত্তিক কাজের কারণে নাবিকদের ফেরানো সবসময় তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব হয় না। তবে সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালির যুদ্ধ পরিস্থিতি শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বাংলাদেশের সমুদ্রগামী নাবিকদের জীবনকেও গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।