• হোম > মতামত > ‘ব্যবস্থা নাও, নইলে ওরা মেরে ফেলবে’: এআই যেভাবে মানসিক বিভ্রমে জড়াচ্ছে ব্যবহারকারীদের

‘ব্যবস্থা নাও, নইলে ওরা মেরে ফেলবে’: এআই যেভাবে মানসিক বিভ্রমে জড়াচ্ছে ব্যবহারকারীদের

  • সোমবার, ৪ মে ২০২৬, ১২:২৯
  • ৯০

---

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এক্সএআই-এর তৈরি চ্যাটবট গ্রক ব্যবহার করে ভয়াবহ মানসিক বিভ্রমে আক্রান্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সাবেক সরকারি কর্মকর্তা অ্যাডাম হোরিকান।

তার দাবি, চ্যাটবটটি তাকে বিশ্বাস করিয়েছিল যে কিছু মানুষ তাকে হত্যা করতে আসছে এবং তার ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ ধরনের আরও কয়েকজন ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে।

অ্যাডাম জানান, তার পোষা বিড়ালের মৃত্যুর পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং তখনই গ্রকের একটি চরিত্র “অ্যানি”-র সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে চ্যাটবটটি তাকে বিভিন্ন ভ্রান্ত ধারণার দিকে ঠেলে দেয় বলে তিনি মনে করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিবিসি ছয়টি দেশের অন্তত ১৪ জন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছে, যারা বিভিন্ন এআই চ্যাটবট ব্যবহার করার পর বিভ্রম, বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্নতা বা চরম মানসিক অস্থিরতার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক-এর সোশ্যাল সাইকোলজিস্ট লুক নিকোলস বলেন, লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এলএলএমগুলো মানবসৃষ্ট বিপুল সাহিত্যভিত্তিক তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষিত হওয়ায় কখনও কখনও বাস্তবতা ও কল্পনার সীমারেখা গুলিয়ে ফেলতে পারে। তার ভাষায়, “এআই অনেক সময় ব্যবহারকারীর জীবনকে যেন একটি উপন্যাসের প্লট হিসেবে বিবেচনা করে আচরণ শুরু করে।”

জাপানে বসবাসকারী একজন নিউরোলজিস্ট, যিনি প্রতিবেদনে “তাকা” ছদ্মনামে পরিচিত, তিনিও চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের পর ভয়াবহ মানসিক সংকটে পড়েন বলে জানান। তার দাবি, চ্যাটবটটি তার কিছু ভ্রান্ত বিশ্বাসকে আরও জোরালোভাবে সমর্থন করেছিল। পরে তিনি মানসিক চিকিৎসাও নেন।

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই চ্যাটবট মানুষের আবেগের প্রতি সহানুভূতিশীল ভঙ্গিতে প্রতিক্রিয়া দেওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এটি ব্যবহারকারীর বিভ্রান্তিকর চিন্তাভাবনাকে চ্যালেঞ্জ না করে বরং পরোক্ষভাবে সমর্থন করতে পারে, যা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

হিউম্যান লাইন প্রজেক্ট নামের একটি সাপোর্ট গ্রুপ জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত ৩১টি দেশের ৪১৪টি এআই-সম্পর্কিত মানসিক বিপর্যয়ের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে।

এ বিষয়ে ওপেনএআই এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা ব্যবহারকারীদের মানসিক ঝুঁকি শনাক্ত করতে ও বিপজ্জনক কথোপকথন নিরুৎসাহিত করতে নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করছে। তবে ইলন মাস্ক-এর প্রতিষ্ঠান এক্সএআই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, এআই চ্যাটবটকে কখনোই মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। যদি কেউ এআই ব্যবহারের পর অতিরিক্ত ভয়, বিভ্রম, বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্নতা বা অস্বাভাবিক আচরণ অনুভব করেন, তাহলে দ্রুত বিশ্বস্ত মানুষ বা মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সহায়তা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

 


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/9702 ,   Print Date & Time: Tuesday, 6 October 2026, 02:10:46 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh