• হোম > বিদেশ > ইরান যুদ্ধের অচলাবস্থা ট্রাম্পকে আরও খারাপ অবস্থায় ফেলতে পারে

ইরান যুদ্ধের অচলাবস্থা ট্রাম্পকে আরও খারাপ অবস্থায় ফেলতে পারে

  • শনিবার, ২ মে ২০২৬, ২৩:১২
  • ৬৪

---

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ দুই মাসের বেশি সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট সামরিক বা কূটনৈতিক সমাধান আসেনি। ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন এক অচলাবস্থার মুখে পড়েছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, গোটা বিশ্বের জন্যও বড় সংকট তৈরি করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় পরিস্থিতি এখন আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

যুদ্ধের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী বলে দাবি করছে। তবে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের দূরত্ব থাকায় আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। ইরান নতুন করে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। ফলে উত্তেজনা আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অমীমাংসিত সংঘাতের বড় প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং এর চাপ যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের ওপরও পড়ছে। এতে ট্রাম্প প্রশাসনের জনপ্রিয়তা কমছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্যও এটি রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করছে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, তবুও ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্যগুলো এখনও পূরণ হয়নি। কখনও শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন, আবার কখনও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ—এমন পরিবর্তনশীল লক্ষ্য পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

সম্প্রতি ইরান প্রস্তাব দিয়েছিল, যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়া এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা স্থগিত রাখা হোক। তবে ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই পারমাণবিক ইস্যুকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় সেই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় নতুন আলোচনা প্রস্তাব এলেও ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এতে সন্তুষ্ট নন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও যদি হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ কমানো না যায়, তবে তা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হবে। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ লরা ব্লুমেনফেল্ড বলেন, “ট্রাম্পকে এমন একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনে রাখা হতে পারে, যিনি বিশ্বকে আরও কম নিরাপদ করেছেন।”

হোয়াইট হাউস অবশ্য দাবি করছে, সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের ফলে ইরান দুর্বল অবস্থায় রয়েছে এবং ট্রাম্প পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। তবে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেও অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে জানা গেছে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের তেল রপ্তানি আরও কমাতে দীর্ঘমেয়াদি নৌ অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনে নতুন সামরিক পদক্ষেপের পথও খোলা রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানও তাদের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করে তেহরান বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশলগত সক্ষমতা ইরানকে ভবিষ্যতেও আঞ্চলিক রাজনীতিতে আরও প্রভাবশালী করে তুলতে পারে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/9649 ,   Print Date & Time: Sunday, 4 October 2026, 10:47:28 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh