• হোম > এক্সক্লুসিভ | বিচার বিভাগ | বিদেশ > এপস্টাইনের ‘জোরো র‍্যাঞ্চ’ ঘিরে ভয়াবহ অভিযোগ:মানব ক্লোনিং, ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ড ও গোপন কবরের দাবি নিয়ে নতুন বিস্ফোরণ

এপস্টাইনের ‘জোরো র‍্যাঞ্চ’ ঘিরে ভয়াবহ অভিযোগ:মানব ক্লোনিং, ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ড ও গোপন কবরের দাবি নিয়ে নতুন বিস্ফোরণ

  • শনিবার, ২ মে ২০২৬, ১৮:৩৪
  • ৯১

নিউ মেক্সিকোতে অবস্থিত নিজের জোরো র‍্যাঞ্চ এস্টেটে জেফরি এপস্টাইন। ছবি: রয়টার্স
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

মার্কিন ধনকুবের ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী Jeffrey Epstein-এর নিউ মেক্সিকোতে অবস্থিত কুখ্যাত “জোরো র‍্যাঞ্চ” নিয়ে নতুন করে বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান 60 Minutes-এ প্রকাশিত এক ডকুমেন্টারিতে উঠে এসেছে ভয়াবহ সব দাবি—যেখানে বলা হয়েছে, ওই র‍্যাঞ্চে নারী ও পুরুষ উভয়কেই যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে, এমনকি হত্যার পর মরদেহ গোপনে মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
ডকুমেন্টারিতে অংশ নেওয়া কয়েকজন ভুক্তভোগী ও সাক্ষীর ভাষ্য অনুযায়ী, নিউ মেক্সিকোর মরুভূমির মাঝে বিচ্ছিন্ন এই র‍্যাঞ্চটি ছিল ভয়াবহ নির্যাতনের কেন্দ্র। সাবেক ভুক্তভোগী চন্টে ডেভিস জানান, এপস্টাইন তাকে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ, নিউ ইয়র্ক, প্যারিস ও সেন্ট ট্রোপেজসহ বিভিন্ন স্থানে পাচার করলেও “জোরো র‍্যাঞ্চ” ছিল সবচেয়ে ভয়ঙ্কর জায়গা।
তার ভাষায়,

“ওটা ছিল পাহাড় আর মরুভূমি ঘেরা এক বিচ্ছিন্ন জায়গা। মনে হতো খাঁচায় আটকে থাকা ইঁদুরের মতো অপেক্ষা করছি কখন দরজায় কড়া নাড়ে।”

ডেভিস দাবি করেন, “ম্যাসাজ” শব্দটি আসলে ছিল জোরপূর্বক যৌন নির্যাতনের সংকেত।
পুরুষদের ওপরও নির্যাতনের অভিযোগ
ডকুমেন্টারিতে আরও উঠে এসেছে, শুধু নারী নয়—পুরুষদেরও মাদক প্রয়োগ করে যৌন নির্যাতনের শিকার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
মার্কিন কংগ্রেস সদস্য Melanie Stansbury জানান, এক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন যে তাকে র‍্যাঞ্চে নিয়ে গিয়ে মাদক খাইয়ে অচেতন করা হয় এবং পরে তিনি একাধিক তরুণ পুরুষকে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে দেখেন।
স্ট্যান্সবারি বলেন,

“এপস্টাইন ও Ghislaine Maxwell ছিলেন ধারাবাহিক যৌন নির্যাতনকারী। এটি ছিল তাদের জীবনযাপনের অংশ।”

‘গোপন কবর’ ও হত্যার অভিযোগ
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি এসেছে ২০১৯ সালে এফবিআইয়ের কাছে পাঠানো একটি ইমেইল থেকে। সেখানে অভিযোগ করা হয়, র‍্যাঞ্চের আশপাশের পাহাড়ে দুই বিদেশি তরুণীর মরদেহ গোপনে কবর দেওয়া হয়েছিল। ইমেইলে দাবি করা হয়, “সহিংস যৌন কর্মকাণ্ডের সময় শ্বাসরোধে তাদের মৃত্যু হয়।

স্ট্যান্সবারি জানান, এই তথ্য পাওয়ার পর তিনি নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার মতে, অভিযোগগুলোর ধরন অন্যান্য মানবপাচার ও নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে মিলে যায়।

তিনি বলেন, তদন্তকারীরা ইতোমধ্যে র‍্যাঞ্চের প্রায় ৭,৫০০ একর এলাকা স্ক্যান ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ শুরু করেছেন।
“পারফেক্ট বেবি” ও জিনগত পরীক্ষা নিয়ে ভয়াবহ দাবি ডকুমেন্টারিতে এপস্টাইনের কথিত “পারফেক্ট জিন পুল” তৈরির বিকৃত ধারণার কথাও উঠে এসেছে।
ভিক্টোরিয়া জিউফ্রে, জেফরি এপস্টাইনের অন্যতম ভুক্তভোগী, জোরো র‍্যাঞ্চে তোলা একটি ছবিতে। ছবি: রেক্স ফিচারস
ডেভিস দাবি করেন, কিছু তরুণী ঘুম থেকে উঠে নিজেদের অন্ধকার কক্ষে চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে দেখতে পেতেন, কিন্তু তাদের ওপর কী ধরনের চিকিৎসা বা পরীক্ষা চালানো হয়েছে তা জানতেন না।

ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান মেলানি স্ট্যান্সবারি ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করছেন। ছবি: ৬০ মিনিটস

তিনি আরও বলেন, “একটি শিশুর জন্ম হওয়ার পর গিসলেইন ম্যাক্সওয়েল সেটিকে নিয়ে যায়—এমন কথাও শুনেছি।”

এছাড়া প্রকাশিত কিছু ইমেইলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, এপস্টাইন গোপনে মানব ক্লোনিং বা ডিজাইনার বেবি প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহী ছিলেন।
“এপস্টাইন ফাইল” থেকে “এপস্টাইন ট্রায়াল” নিউ মেক্সিকোর আইনপ্রণেতারা এখন এই অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে নতুন তদন্ত কমিশন গঠন করেছেন। কমিশনের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৫ লাখ ডলার।

নিউ মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষ এখন জোরো র‍্যাঞ্চটি তদন্ত করছে। ছবি: রয়টার্স

সাবেক নিউ মেক্সিকো অ্যাটর্নি জেনারেল Hector Balderas অভিযোগ করেন, ২০১৯ সালে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ তাকে তদন্তে “পিছু হটতে” বলেছিল।
তার দাবি, পরে নথি দেখে তিনি জানতে পারেন যে এফবিআই হত্যার অভিযোগসংক্রান্ত তথ্য পেয়েও তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণাঙ্গ তল্লাশি চালায়নি।
রাজপরিবার, রাজনীতি ও নতুন বিতর্ক এই ডকুমেন্টারি প্রকাশের সময়ই King Charles III যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন। এপস্টাইনের ভুক্তভোগী Virginia Giuffre-এর পরিবারের পক্ষ থেকে রাজাকে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে সাক্ষাতের আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে রাজপরিবারের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, চলমান তদন্তের কারণে রাজা সরাসরি এ বিষয়ে মন্তব্য করবেন না।
এদিকে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য Prince Andrew-এর নামও আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভার্জিনিয়া জিউফ্রে অতীতে তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছিলেন, যদিও প্রিন্স অ্যান্ড্রু সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এই নতুন ডকুমেন্টারি ও তদন্ত এপস্টাইন কেলেঙ্কারিকে আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। তবে অভিযোগগুলোর অনেকগুলো এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি, এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সূত্রঃ দ্যা ইউ এস সান


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/9645 ,   Print Date & Time: Sunday, 4 October 2026, 09:15:26 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh