![]()
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের “অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল” (OFAC) হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ মালিকদের উদ্দেশে নতুন করে কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেছে। শুক্রবার প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইরানকে কোনো ধরনের টোল, ফি বা আর্থিক সুবিধা প্রদান করে এই প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করলে তা সরাসরি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের লেনদেন যেকোনো মাধ্যমে করা হোক না কেন—প্রচলিত মুদ্রা, ক্রিপ্টোকারেন্সি, অনানুষ্ঠানিক অর্থ বিনিময় ব্যবস্থা কিংবা ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে ‘দান’ হিসেবে—সবই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অনুযায়ী, এ ধরনের অর্থ প্রদান ইরানি শাসনব্যবস্থাকে আর্থিকভাবে সহায়তা করার সমতুল্য।
বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইরান এই প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর ওপর টোল আরোপের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে, যা অঞ্চলটির ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
ওএফএসি জানায়, জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার বিনিময়ে ইরান অর্থ দাবি করছে—এ বিষয়ে তারা অবগত আছে। তবে এই ধরনের অর্থ প্রদানকে যুক্তরাষ্ট্র কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করছে। সংস্থাটি নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা কোম্পানির নাম প্রকাশ না করলেও জানিয়েছে, অতীতে এমন অর্থ প্রদান করা কিছু ঘটনার তথ্য তাদের নজরে এসেছে।
একই সময়ে নতুন করে কয়েকটি ইরানি মুদ্রা বিনিময়কারী প্রতিষ্ঠান এবং একটি তেলবাহী ট্যাংকারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে জানানো হয়। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানের অর্থ সংগ্রহ ও স্থানান্তর সক্ষমতাকে সীমিত করতে এ ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে এবং যারা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করবে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।