![]()
তারেক রহমান বলেছেন, সরকার ঢাকা-সিলেট রুটে সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার বড় ধরনের উন্নয়ন কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। শনিবার সিলেট সিটি কর্পোরেশন নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অবস্থা এতটাই খারাপ যে যাতায়াতে প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লাগে। রাস্তার বিভিন্ন অংশ ভাঙাচোরা থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি এই সড়কের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, সরকার গঠনের পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে ১১টি সাইট অফিসের জমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও প্রশাসনিক সমস্যার কারণে কাজ বিলম্বিত হয়েছে। তবে দ্রুত এসব জটিলতা সমাধান করে কাজ শুরু করা হবে এবং আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি রেলপথকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ে-এর আওতায় ঢাকা-সিলেট রেলপথে ডাবল লাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে যাত্রী পরিবহন সহজ হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও কম খরচে পণ্য পরিবহন করতে পারবেন।
স্বাস্থ্য খাত নিয়ে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার যুক্তরাজ্যের National Health Service (এনএইচএস)-এর আদলে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। এ লক্ষ্যে সারাদেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাদের প্রায় ৮০ শতাংশ নারী। তারা প্রান্তিক মানুষের কাছে গিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
তিনি আরও জানান, Sylhet MAG Osmani Medical College-এর অধীনে ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল দ্রুত চালু করা হবে, যা পরে ১,২০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সিলেটে শিল্প ও আইটি খাতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হবে।
জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু সিলেট নয়, সারা দেশের সমস্যা। তিনি জনগণকে প্লাস্টিক ও পলিথিনসহ বর্জ্য যেখানে-সেখানে না ফেলার আহ্বান জানান এবং সিটি কর্পোরেশনকে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন।
এ সময় তিনি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ নামে নতুন একটি ক্রীড়া উদ্যোগের কথাও ঘোষণা করেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এর ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় চালু হতে যাওয়া এই উদ্যোগের মাধ্যমে সারাদেশ থেকে প্রতিভাবান খুদে খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করা হবে বলে জানান তিনি।
সুধী সমাবেশের আগে প্রধানমন্ত্রী Hazrat Shah Jalal Mazar Sharif জিয়ারত করেন এবং পরে চাঁদনি ঘাটে সুরমা নদী-এর দুই পাড়ে সৌন্দর্যবর্ধন ও বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।