• হোম > অর্থনীতি > সিএসইআর এর বিশ্লেষণ ভ্যাট সংস্কার এখন সময়ের দাবি — ২০২৬-২৭ বাজেটে আমরা কতটা প্রস্তুত?

সিএসইআর এর বিশ্লেষণ ভ্যাট সংস্কার এখন সময়ের দাবি — ২০২৬-২৭ বাজেটে আমরা কতটা প্রস্তুত?

  • শুক্রবার, ১ মে ২০২৬, ২২:৩৮
  • ১৪৬

---
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ভ্যাট ব্যবস্থার সংস্কার অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে, কারণ বিদ্যমান কাঠামো আইনি জটিলতা, অস্পষ্ট সংজ্ঞা এবং প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কারণে পুরোপুরি কার্যকর নয়। এলডিসি উত্তরণের এই সময়ে আমাদের জন্য যেমন প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা জরুরি, তেমনি রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও টেকসই করে তোলাও সমানভাবে প্রয়োজন। এই বাস্তবতা থেকেই আমরা CSER-এর পক্ষ থেকে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট উপলক্ষে একটি বাস্তবমুখী ভ্যাট সংস্কার প্রস্তাবনা করেছি।

ভ্যাট একটি লেনদেনভিত্তিক কর, যেখানে মূল ফোকাস হওয়া উচিত “supply” বা পণ্য ও সেবার প্রকৃত সরবরাহ। কিন্তু বর্তমান আইনে “economic activity” এর মতো জটিল ও তাত্ত্বিক সংজ্ঞা বাস্তবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তাই আমরা এই ধরনের অপ্রয়োজনীয় সংজ্ঞা বাদ দিয়ে একটি সরল ও supply-based কাঠামো প্রস্তাব করেছি। পাশাপাশি “money” এর সংজ্ঞায় gift voucher অন্তর্ভুক্ত করা, “import” এর সংজ্ঞায় সেবাকে যুক্ত করা এবং “electronic services” এর বিচ্ছিন্ন সংজ্ঞাগুলো একীভূত করার মতো প্রস্তাবগুলো ভ্যাট ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত করে তুলবে। একইসঙ্গে investigation, audit, turnover, tax fraction ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সংজ্ঞা স্পষ্ট করার মাধ্যমে আইনের জটিলতা কমানো সম্ভব হবে।

ভ্যাট ব্যবস্থার কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করে এর সহজতার ওপর। বর্তমানে VAT-inclusive মূল্য থেকে কর নির্ধারণ করা অনেক ব্যবসায়ীর জন্য জটিল হয়ে দাঁড়ায়, যা ভুল হিসাব ও অনিচ্ছাকৃত অনিয়মের জন্ম দেয়। এই সমস্যা সমাধানে আমরা একটি সহজ ও মানসম্মত কর গণনার সূত্র প্রস্তাব করেছি। একই সঙ্গে ট্যাক্স নেট সম্প্রসারণের জন্য নির্দিষ্ট টার্নওভারের বেশি ব্যবসাকে বাধ্যতামূলকভাবে ভ্যাটের আওতায় আনার এবং অনিবন্ধিত ব্যবসাগুলোকে উৎসাহিত করতে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুপারিশ করেছি। এতে করে রাজস্ব বাড়বে এবং একটি ন্যায্য প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হবে।

বর্তমান বিশ্বে ডিজিটালাইজেশন ছাড়া কোনো কর ব্যবস্থা কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) আমাদের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে। আমি মনে করি, MFS-এর মাধ্যমে সরাসরি সরকারি হিসাবে ভ্যাট জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করলে রাজস্ব সংগ্রহ সহজ হবে, স্বচ্ছতা বাড়বে এবং দুর্নীতি কমবে। পাশাপাশি খাতভিত্তিক বাস্তবতা বিবেচনায় বীমা ও আন্তর্জাতিক সেবার মতো ক্ষেত্রে আলাদা নীতিমালা প্রণয়ন প্রয়োজন। সবশেষে আমি বলতে চাই, এখনই ভ্যাট সংস্কারের সঠিক সময়। একটি ভারসাম্যপূর্ণ, সহজ ও আধুনিক ভ্যাট ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে তা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এখন প্রয়োজন শুধু দূরদর্শী সিদ্ধান্ত এবং কার্যকর বাস্তবায়ন।

সাকিফ শামীম

চেয়ারম্যান, সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চ (CSER)

ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল অ্যান্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/9598 ,   Print Date & Time: Sunday, 4 October 2026, 03:05:05 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh