![]()
টানা ভারি বৃষ্টি ও উজানের ঢলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনার নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে বন্যা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগামী আরও অন্তত ৪–৫ দিন থেমে থেমে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে (১৬১ মিমি)। ভোলা, ফেনীসহ একাধিক জেলাতেও ভারি বৃষ্টি হয়েছে।
বন্যা ও নদীর পরিস্থিতি
- পাঁচটি জেলায় (মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট) বন্যার আশঙ্কা বা শুরু হয়েছে।
- কংস, সোমেশ্বরী, মনু ও মগরা নদীসহ কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
- পাহাড়ি ঢল ও ভারি বৃষ্টিতে হাওরাঞ্চলে পানি দ্রুত বাড়ছে।
কৃষিতে বড় ক্ষতি
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বোরো ধান:
- মৌলভীবাজারে শত শত হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে।
- বরিশাল, বাগেরহাট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নেত্রকোনায় হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে।
- অনেক এলাকায় ধান কাটার মাঝেই বৃষ্টি শুরু হওয়ায় কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
বিশেষ পরিস্থিতি
- সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকে ফসল তলিয়েছে।
- কিশোরগঞ্জ, ভোলা ও ফেনীতে অতিভারি বৃষ্টি পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস
আবহাওয়াবিদদের মতে, বৃষ্টি একটানা না হলেও থেমে থেমে চলবে এবং ৪ মে পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। বৃষ্টি কমলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।