![]()
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হওয়ার পর এখন মূল ফোকাস নিরাপদভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা এবং জাতীয় গ্রিডে স্থিতিশীলভাবে সংযোগ নিশ্চিত করা—এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বিএইআরএ) চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান।
তিনি বলেন, রূপপুর কেন্দ্র থেকে প্রথমে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়িয়ে প্রথম ইউনিট থেকে ৯০০ থেকে ১,০০০ মেগাওয়াট এবং সর্বোচ্চ ১,২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত নেওয়া সম্ভব হবে। তবে এই পুরো প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় বিষয় হলো গ্রিডের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে গ্রিডের ফ্রিকোয়েন্সি ৫০ হার্জে স্থিতিশীল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন। সামান্য ওঠানামাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিঅ্যাক্টর শাটডাউন করতে পারে, তাই ভোল্টেজ ও ফ্রিকোয়েন্সি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।
এ কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে ও পরে প্রতিটি ধাপ আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা)-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রতি পাঁচ দিন অন্তর পরিদর্শন, ডাটা সংগ্রহ এবং নিরাপত্তা যাচাই চলবে বলে জানান তিনি।
রূপপুর প্রকল্প নিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষ হয়েছে এবং ডিসেম্বর-জানুয়ারি নাগাদ প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি লোডিং আগামী বছরের এপ্রিলের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি আরও জানান, কেন্দ্রের নিরাপত্তা, রেডিয়েশন পর্যবেক্ষণ, বোরিক অ্যাসিডের মাত্রা এবং রিঅ্যাক্টরের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে মনিটর করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ফায়ার সেফটি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করেই লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে।
তবে প্রকল্পে জনবল সংকট বড় একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে—প্রায় অর্ধেক পদই এখনো শূন্য। এজন্য কিছু জনবল বিদেশে, বিশেষ করে রাশিয়ায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রূপপুর চালু হলে এটি দেশের বিদ্যুৎ খাতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে, তবে গ্রিড ব্যবস্থাপনা ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত করাই এখন প্রকল্পটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।