![]()
এমজিআর নাসির মজুমদার
দেশে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প কারখানা পুনরায় চালু করতে সরকারের প্রণোদনা প্রদানের পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ উদ্যোগকে ঘিরে নানা আশঙ্কা ও প্রশ্নও উঠে আসছে ব্যবসায়ী মহলে।
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক এম জি আর নাসির মজুমদারের আশঙ্কাকে সমর্থন জানিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে মনে করছেন, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং চ্যালেঞ্জিং। তাদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ সফল করতে যে আন্তরিকতা, দক্ষতা এবং নিরপেক্ষতা প্রয়োজন, তা অতীতে অনেক ক্ষেত্রে অনুপস্থিত ছিল।
ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, দেশে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পেছনে নানা অনিয়ম, হামলা এবং স্বার্থান্বেষী মহলের ভূমিকা ছিল। এসব ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং দায় নির্ধারণ না করে নতুন করে প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করলে তা আবারও বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
তারা আরও বলেন, “প্রণোদনা বা সহায়তার নামে যেন নতুন করে ভাগ-বাটোয়ারার সুযোগ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।” কারণ, দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যে ব্যাংক ও শেয়ারবাজার লুটপাট নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রকৃত মালিক বা তাদের অভিজ্ঞ প্রতিনিধিদের বাইরে রেখে কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান সফলভাবে পুনরায় চালু করা সম্ভব নয়। এতে ক্রেতা-বিক্রেতার আস্থা তৈরি হয় না এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
এক্ষেত্রে একটি প্রস্তাবও উঠে এসেছে—যেসব শিল্প মালিকের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ নেই, তাদের দেশে ফিরে এসে বা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে (যেমন জামিন ও পাসপোর্ট জব্দ রেখে) নিজ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী বিচার প্রক্রিয়াও চলমান থাকবে।
ব্যাংক খাতের বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলেন, শিল্প মালিকদের খেলাপি ঋণ তারা নিজেরাই ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধান করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করতে হবে।
তবে কঠোরভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, “যারা প্রকৃত অর্থে ব্যাংক ও শেয়ারবাজার লুটপাটের সঙ্গে জড়িত, তাদের কোনোভাবেই নতুন করে সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।” তা না হলে জনমনে ভুল বার্তা যেতে পারে এবং সরকারের উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
সর্বোপরি, বন্ধ শিল্প কারখানা চালুর উদ্যোগকে সফল করতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রকৃত উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।