• হোম > বাংলাদেশ > টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন অঞ্চলে গ্যাসের সম্ভাব্যতা ৬ টিসিএফ

টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন অঞ্চলে গ্যাসের সম্ভাব্যতা ৬ টিসিএফ

  • মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৫
  • ৪৮

---

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় পূর্বাঞ্চলীয় ফোল্ডবেল্ট ব্লক-১৮ এলাকায় বিপুল গ্যাস সম্ভাবনার নতুন তথ্য উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় সেন্ট মার্টিন, টেকনাফ ও কোরাল দ্বীপ এলাকায় প্রাথমিকভাবে প্রায় ৬ হাজার ১৪৬ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ), অর্থাৎ প্রায় ৬ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গবেষণা অনুযায়ী, এই অঞ্চলে উত্তোলনযোগ্য সম্ভাব্য গ্যাসের পরিমাণ প্রায় ৪,৭৪৫ বিসিএফ এবং প্রমাণিত সম্ভাবনা প্রায় ২,০৬৪ বিসিএফ হতে পারে। এর মধ্যে কোরাল দ্বীপ এলাকায় সবচেয়ে বেশি গ্যাসের সম্ভাবনা দেখা গেছে, এরপর রয়েছে সেন্ট মার্টিন ও টেকনাফ অঞ্চল।

এই গবেষণায় ‘মন্টে কার্লো সিমুলেশন’ নামের পরিসংখ্যানভিত্তিক একটি উন্নত পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন তথ্য ও সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ফলাফল নির্ধারণ করা হয়। এর আগেও ২০১১ সালে মার্কিন প্রতিষ্ঠান গুস্তাভসন অ্যাসোসিয়েটস প্রায় ৪,৪৭৩ বিসিএফ গ্যাসের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিল। নতুন গবেষণায় সেই হিসাব আরও বেড়ে যাওয়ায় সমুদ্র এলাকায় বাংলাদেশের জ্বালানি সম্পদের সম্ভাবনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরের এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাস অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় হিসেবে বিবেচিত হলেও কার্যকর ও বড় পরিসরের অনুসন্ধান হয়নি। নীতিগত সিদ্ধান্তহীনতা, বিনিয়োগ ঘাটতি এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে এই খাতে অগ্রগতি থমকে ছিল। ফলে দেশকে ক্রমাগত আমদানিনির্ভর এলএনজি ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়েছে, যা জ্বালানি খাতে ব্যয় বাড়িয়েছে।

এদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা Petrobangla জানিয়েছে, সমুদ্র এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন করে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অনুমতি পেলে আগামী মাসেই এই প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। বাংলাদেশের সমুদ্র এলাকায় মোট ২৬টি ব্লক রয়েছে, যার মধ্যে পূর্বাঞ্চলীয় ব্লক-৮ থেকে ব্লক-১৮ অঞ্চলকে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চলে যদি পরিকল্পিতভাবে অনুসন্ধান চালানো যায়, তাহলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা অনেকটাই শক্তিশালী হতে পারে। একইসঙ্গে তারা মনে করছেন, মিয়ানমার ইতোমধ্যে একই ভূ-ভৌগোলিক অঞ্চলে গ্যাস উত্তোলন করছে, যা বাংলাদেশের অংশেও উল্লেখযোগ্য মজুদের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করে। তবে তারা সতর্ক করে বলছেন, প্রকৃত রিজার্ভ জানতে হলে দ্রুত ও কার্যকর অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করা জরুরি, নতুবা এই সম্ভাবনা দীর্ঘদিন ধরেই অনাবিষ্কৃত থেকে যেতে পারে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/9476 ,   Print Date & Time: Friday, 21 August 2026, 12:53:36 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh