![]()
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা অনেক দেশকে দ্রুত বিকল্প শক্তির দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করছে। বিশেষ করে তেলনির্ভর অর্থনীতিগুলো এখন সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলাতে গিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।
এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হিসেবে উঠে এসেছে চীন। সৌরপ্রযুক্তি, ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) খাতে দেশটির রপ্তানি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রেকর্ড গড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সংকটের কারণে বিশ্বজুড়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির চাহিদা হঠাৎ করেই অনেক বেড়ে গেছে, আর সেই বাজারে চীনা পণ্যের আধিপত্য আরও শক্ত হচ্ছে।
তেল সরবরাহে বিঘ্ন এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করেছে। অনেক দেশই এখন জ্বালানি নিরাপত্তাকে পুনর্মূল্যায়ন করছে এবং দীর্ঘমেয়াদে তেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা নিচ্ছে। এর ফলে সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুশক্তি ও ব্যাটারি স্টোরেজ প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি আসলে একটি বৃহত্তর জ্বালানি রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করছে। জীবাশ্ম জ্বালানির দামের ওঠানামা যত বাড়ছে, ততই নবায়নযোগ্য জ্বালানি অনেক দেশের কাছে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ও সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চীন এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে অবস্থান করছে। দেশটির “নিউ থ্রি” খাত—সৌর, ব্যাটারি ও ইভি—বর্তমানে তাদের রপ্তানি প্রবৃদ্ধির বড় চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশ এখন দ্রুতগতিতে এসব প্রযুক্তি আমদানি করছে, বিশেষ করে যারা তেল সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।
তবে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে একই গতিতে বজায় থাকবে কি না, তা নির্ভর করবে বৈশ্বিক চাহিদা, নীতিগত পরিবর্তন এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর।
সব মিলিয়ে বলা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও তেল সংকট শুধু জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেনি, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে—যেখানে চীন আপাতত সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে।