![]()
এশিয়ার বিভিন্ন জলসীমায় ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার আটককে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
শিপিং ও নিরাপত্তা সূত্র অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সময়ে অন্তত তিনটি ইরানি পতাকাবাহী জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকারের গতিপথ পরিবর্তন করে সেগুলোকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। জাহাজগুলোকে ভারত, মালয়েশিয়া এবং শ্রীলঙ্কা সংলগ্ন জলসীমা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
আটক জাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ডিপ সি’, ‘সেভিন’ এবং ‘দোরেনা’—যেগুলোর কিছুতে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বোঝাই ছিল। বিশেষ করে ‘দোরেনা’ প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল বহন করছিল এবং এটি বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
এই ঘটনার পেছনে রয়েছে হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক চলমান উত্তেজনা। মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। প্রণালিটি আংশিকভাবে অচল হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য হুমকি। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানও কয়েকটি জাহাজ আটক এবং গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে।
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, অবরোধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত ২৯টি জাহাজকে পথ পরিবর্তন বা ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। তবে সব জাহাজের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি সংঘর্ষ এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন উন্মুক্ত সমুদ্রে ইরানি জাহাজগুলোর গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের কৌশল নিচ্ছে, যাতে ভাসমান মাইনের ঝুঁকি কম থাকে।
সব মিলিয়ে, জাহাজ জব্দ ও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে।