![]()
চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজ-এ গ্রাফিতিতে ‘গুপ্ত’ শব্দ লেখা নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
ঘটনার জেরে শুধু চট্টগ্রাম নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-সহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ কর্মসূচি হয়েছে।
সংঘর্ষের পর সিটি কলেজে ক্লাস বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ নিউ মার্কেটসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে।
মঙ্গলবারের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার দাবি করা হলেও এখনো কোনো মামলা হয়নি। পরে নগরীর পাহাড়তলী এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-ঘনিষ্ঠ শ্রমিক সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের একটি কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় কলেজের দেয়ালে লেখা একটি গ্রাফিতি ঘিরে। অভিযোগ অনুযায়ী, ‘ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখার ‘ছাত্র’ শব্দ মুছে ‘গুপ্ত’ লেখা হলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পরদিন সকাল থেকে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়ে দুপুরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। বিকেলে আবার মিছিল ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় নিউ মার্কেট ও কলেজ এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ, লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনাও দেখা গেছে।
পুলিশ জানায়, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতা চলছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম স্থগিত রাখলেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরীক্ষা চালু রয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলমান রয়েছে, যা নতুন করে সংঘর্ষের মাধ্যমে সামনে এসেছে।