• হোম > বাংলাদেশ > জ্বালানি সংকটের নেপথ্যে অব্যবস্থাপনা, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

জ্বালানি সংকটের নেপথ্যে অব্যবস্থাপনা, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

  • বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৩
  • ৮৩

---

পর্যাপ্ত আমদানি ও মজুত থাকার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় জ্বালানি তেলের সংকটের চিত্র এখনো কাটেনি। মঙ্গলবারও তেলের পাম্পগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালকদের। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন রাইড শেয়ারিং বাইকচালকরা—তাদের দৈনিক ট্রিপ ও আয় উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) দাবি করছে দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। অনেক পাম্পে ‘তেল নেই’ নোটিশ, আবার কোথাও সীমিত সরবরাহের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের পর গত ৫৩ দিনে চট্টগ্রাম বন্দরে ২৬টি জাহাজে মোট ৮ লাখ ২৩ হাজার টনের বেশি জ্বালানি আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে বিপুল পরিমাণ ডিজেল ছাড়াও ফার্নেস অয়েল, অকটেন ও জেট ফুয়েল রয়েছে। এমনকি সর্বশেষ মালয়েশিয়া থেকে ৩২ হাজার টন ডিজেল নিয়ে একটি জাহাজও বন্দরে নোঙর করেছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, আমদানি ও পূর্বের মজুত মিলিয়ে দেশের চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত জ্বালানি থাকার কথা। তবুও খুচরা পর্যায়ে সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের মূল কারণ সরবরাহ ঘাটতি নয়, বরং বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতা। মার্চের শুরুতে হঠাৎ করে অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়—মাত্র এক সপ্তাহেই স্বাভাবিকের দ্বিগুণ জ্বালানি বিক্রি হয়। মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কায় অনেকেই অতিরিক্ত জ্বালানি কিনে মজুত করেন।

এছাড়া নজরদারির অভাব, ডিপো ও পাম্প পর্যায়ে অনিয়ম, এমনকি সীমান্তবর্তী এলাকায় পাচারের অভিযোগও উঠেছে। ফলে কাগজে-কলমে পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও বাস্তবে ভোক্তারা সংকটে পড়ছেন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি এড়াতে আগেই ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা, অ্যাপভিত্তিক মনিটরিং এবং জোড়-বিজোড় নম্বর প্লেট অনুযায়ী রেশনিং চালু করা প্রয়োজন ছিল। এসব ব্যবস্থা না থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে বিপিসি প্রতিদিন জ্বালানি সরবরাহ ১০ থেকে ২০ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু সরবরাহ বাড়ালেই হবে না—সঠিক ব্যবস্থাপনা ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত না করলে সংকট কাটবে না।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/9209 ,   Print Date & Time: Saturday, 26 September 2026, 07:41:13 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh